রক্তাক্ষরে লিপি
- মোঃ আছির আলী ( আসিফ )
আমাদের পাঁজরে তোমাদের ওই উদ্ধত পদাঘাত,
জাগিয়ে তুলেছে সহস্রাব্দের ঘুমন্ত কালরাত।
ভেবেছ কি এই পাষাণভিত্তি শোষণের ইমারত—
অক্ষয় রবে? ভুলে গেছ বুঝি মহাকালের শপথ!
হুমায়ুনের কোষাগারে ছিল রত্নখচিত বিভা,
তবুও থেমে গিয়েছিল তাঁর দুর্মদ অহংকার দিবা।
সামান্য এক সিঁড়ির সোপানে চূর্ণ হয়েছিল দম্ভ,
তোমাদেরও আজ ভেঙে পড়বে ওই শোষণের স্তম্ভ।
বাংলার মাটি ভিজেছে আজ অমলিন তপ্ত রক্তে,
ফাটল ধরেছে তোমাদের ঐ জবরদখল তখতে।
ইতিহাস কভু ক্ষমা করে না ওই আততায়ী হাত,
আঁধার ফুঁড়ে ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী প্রভাত।
অনিবার্য সেই পদস্খলন—সময় শুধু অপেক্ষা,
ধূলিসাৎ হবে তোমাদের ওই মিথ্যে জয়ের দীক্ষা।
জনতার এই রুদ্র রোষে তোমরা হবে যে ধ্বংস,
মহাপতনের ইতিহাসে মুছে যাবে তোমাদের বংশ।
১৫৫৬ সালে সম্রাট হুমায়ুনের সিঁড়ি থেকে পড়ে আকস্মিক মৃত্যুর ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে শোষকগোষ্ঠীর দম্ভ ও অনিবার্য পতনের একটি ‘শিক্ষণীয় প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শোষক বলা হয়নি। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘সিঁড়ি’ কবিতার ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত এই চরণের মূল বার্তা হলো—হুমায়ুনের মতো বিপুল ক্ষমতা ও অহংকারের অধিকারী শাসকেরও যদি সামান্য সিঁড়ির সোপানে পদস্খলন হতে পারে, তবে বর্তমানের অত্যাচারী শোষকদের দম্ভের স্তম্ভও একদিন জনতার রুদ্র রোষে এভাবেই ধূলিসাৎ হবে।
২১-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।