নির্বাসিত বসন্ত
- প্রসূন গোস্বামী
আলাদা সুরের খোঁজে মনন হারাক নিজস্ব চরায়,
বরং একাকী হও একতারাটির উদাসীন সুরে।
বরং কণ্টক বুকে বেঁধে রাখো আলপনা-রেখায়,
তবুও বিকিয়ে দিও না নিজেকে কোনো ধূসর হুজুগে।
সবুজ যে মাটি তাকে জোর করে মরুভূমি করা যেখানে নিয়ম,
সেখানে নীরব থাকা আত্মহত্যার চেয়েও অধম।
প্রসঙ্গত, একটি পুরোনো গাঁয়ের গল্প বলা যাক।
যেখানে বাউল আর কীর্তন মিলেমিশে নদী হয়ে যেত,
সেখানে হঠাৎ এক অদ্ভুত আঁধার এসে থমকে দাঁড়াল।
তারা বলল, ‘রঙিন আলপনা মুছে ফেলো, ওসব পাপ!’
তারা বলল, ‘পয়লা বৈশাখের গান তবে থামাও এবার!’
যারা ভয়ে বা ভক্তিতে মেনে নিল সেই পরোয়ানা,
তারা আর মানুষ রইল না—হয়ে গেল হুকুমের দাস।
নিজের শিকড় কেটে কেউ কি কখনও বাঁচতে পেরেছে?
যে যার আপন রঙ্গে, আপন উৎসবে বেঁচে থাকা ভালো,
ঐতিহ্যের বহুবর্ণে প্রদীপ জ্বেলে রাখা ভালো,
একমুখী অন্ধ স্রোতে বিলীন হওয়ার চেয়ে—
তাই তো দ্বিমত হও, আপন সংস্কৃতি বুকে ধরে রাখো।
প্রশ্ন করো সেই আগ্রাসী কালো ছায়াকে,
যে তোমার মায়ের ভাষা, তোমার মাটির সুর কেড়ে নিতে চায়।
ঐ দ্যাখো, একদল চেনা মুখ হেঁটে যায় অচেনা পোশাকে,
যাদের চোখে কোনো প্রশ্ন নেই, বুকে নেই মেঘমল্লারের সুর।
তারা নিজেদের ঐতিহ্যকে জ্যান্ত কবর দিয়ে খুশি,
তারা একই সুরে মাথা নাড়ায়, একই অন্ধত্বে দেয় সায়।
তারা একমত হতে হতে, নিজের অস্তিত্ব ভুলে যেতে যেতে—
একদিন নিজেদের সংস্কৃতিকেই ছুঁড়ে ফেলে দেবে শূন্যের অতলে,
আর পিছে পড়ে থাকবে এক বোবা, নিষ্প্রাণ, অচেনা স্বদেশ।
২৫-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।