নির্বাসিত সুর
- প্রসূন গোস্বামী

তারা এসে কেটে দিল বকুলের ডাল,
বলল—একই রঙে রাঙাও এবার এ বিশাল চাতাল।
যেখানে বাউলের একতারা সুর তুলত বাতাসে,
সেখানে আজ কেবলই গম্ভীর হুংকার ভাসে।
তারা আলপনা মুছে দিল উঠোনের বুক থেকে,
পরিচয় ঢাকল এক নিরেট কালোর মেঘে ডেকে।

মমতার মাটির তৈরি যে হাজার বছরের ঘর,
আজ সেখানে নিজের ভাষায় কথা বলাও ভীষণ পর।
পহেলা বৈশাখের রংকে ওরা বলে পাপের উৎসব,
বন্দি করতে চায় আমাদের হাজার বছরের যে কলরব।
যদি সবাই একসুরে, একই ভয়ে মাথা নিচু করে মেলায় মাথা,
তবে ছিঁড়ে যায় আমাদের সম্প্রীতির এই নকশিকাঁথা।

স্মরণে রেখ—
যে নদী তার বাঁক হারিয়ে সোজা হতে চায়,
সে নদী তো নদী নয়, মরুর বালিতে সে হারায়।
বৈচিত্র্যহীন যে সমাজ, যেখানে সবাই একই বুলি বলে,
তারা আসলে এক অন্ধকার কফিনের দিকে হেঁটে চলে।

তাই তুমি ভিন্ন হও, তোমার কণ্ঠে রাখো সেই পুরোনো গান,
যে গানে মিশে আছে লালন, রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের প্রাণ।
ধূসর সেই অন্ধকারের মুখে ছুঁড়ে দাও রঙের ছটা,
ভেঙে ফেলো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ওই মিথ্যের জটা।
সহজে মেরুদণ্ড দিও না সঁপে ওদের ওই হিংস্র মিছিলে,
বাঙালি কি বাঁচে কখনো নিজের সংস্কৃতিকে হারালে?

রুখে দাঁড়াও প্রশ্নের তলোয়ার হাতে,
একাকী হলেও আলো জ্বেলে রাখো এই কালরাত্রিতে।
নইলে একমত হতে হতে, এক রঙে মিশে যেতে যেতে,
আমরা একদিন দেখব—বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক মহাশ্মশানে,
যেখানে সবুজ মরে গেছে, কেবলই ধূলি ওড়ে শুষ্ক গানে।


২৫-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026