হুজুগের হাওয়া ও অন্ধ মিছিল
- প্রসূন গোস্বামী
সবুজ গাঁয়ের মোড়ল তখন হাঁক ছেড়ে কয় জোরে,
"শত্রু এলো, সব লুটে নিল আমাদের এই ঘরে!"
কেউ সুধাল না—কোথায় শত্রু? কী বা সে নিল লুটে?
লাঠিসোঁটা নিয়ে অন্ধ জনতা চলল কেবল ছুটে।
একজনে কয়, "ওই পাড়ার লোক আমাদের জল টানে,"
দশজনে গায় সেই সুর মিলিয়ে গভীর অন্ধ গানে।
বুদ্ধি বেচে মগজ সঁপেছে হুজুগের হাওয়া পেয়ে,
ক্ষতি ও লাভের হিসাবটি কেউ দেখেনি চক্ষু চেয়ে।
রতন মন্ডল বলেছিল শুধু, "একটু থামো ভাই,
আগে দেখো চেয়ে, সত্যি কি কোনো ঘরের দলিল নাই?"
অমনি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল রতনেরই ঘাড়ে এসে,
"শত্রুর চর! দূর করে দাও একে এই চেনা দেশে।"
পাশের বাড়ির মন্টু কাকা চুপটি মেরে রয়,
ভুল কোলাহলে শামিল না হয়ে মনে মনে শুধু কয়—
"পায়ের তলাতেই ক্ষয়ে যাচ্ছে নিজের মাটির কণা,
অথচ সবাই দূর আকাশের শত্রু পাতায় গোনা।"
এই তো সেদিন সাজানো গাঁয়ের শান্ত অবুঝ ছেলে,
মিছিলে মাতাল, যুক্তি হারিয়ে চোখ দুটো লাল মেলে—
কীসের লোভে যে লড়তে গেল সে প্রকাণ্ড এক পাহাড়,
পাথরের সাথে ধাক্কা লেগে যে ভাঙল হাড় হাড়!
যাঁরা মাথা বেচে ভিড়ের অংশ হতে ভালোবাসে খুব,
নিজের ধ্বংস ডেকে আনে তাঁরা চুপিসারে দিয়ে ডুব।
প্রতিবেশী যদি বলীয়ান হয় জ্ঞানে আর সম্পদে,
তার সাথে দ্বন্দ্বে আখেরে কি ভাই লাভ আছে কোনো পদে?
তাই বলি শোনো, অন্ধ মিছিলে দিও না ওভাবে পা,
সস্তার এই সস্তা স্লোগানে বিকিয়ে দিও না গা।
প্রশ্ন করো মনকে নিজের, ধরো যুক্তির হাল—
নইলে হুজুগে ভেসে গিয়ে শেষে ছিঁড়বে নিজের পাল।
২৮-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।