দোসর
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

ক্ষুদ্র বৃহৎ তাড়নে কারণে অকারণে সাজাতে মনের পোশর ,
প্রকাশ্যে গোপনে চলনে বোলনে সেজেছে অন্যের দোসর ।
ধন-সম্পত্তি মিথ্যা সত্যি ভক্তি অভক্তি হাজারো ল্যাটা নিয়ে,
সেজেছে দোসর সাজায়েছে বাসর মিথ্যে মায়ার পরশ দিয়ে ।
এমনই ছিল একাত্তরে মায়ের ঘরে ঘরে পাকিস্তানের দোসর,
তাদের সঞ্চালনে মা'র বুকটা প্রক্ষালনে জীবন হয়েছে ধূসর ।
আশয়-ভিত্তিতে থেকেছে লেজুড়বৃত্তিতে পাকি-হানাদারের ,
লক্ষ ভ্রাতা বোন করেছে খুন বেড়া দিয়েছে ওরা কাঁটাতারের ।
সুদে-আসলে করেছে উশুল ওই দেশপাংশুল কুটিল-মন্ত্রণায়,
ঘুরে ঘুরে কাছে দূরে খেয়ে কুঁড়ে-কুঁড়ে মেরেছে তীব্র যন্ত্রণায় ।
খুঁজে পাড়া পাড়া করেছে ঘর ছাড়া ঘরে ঘরে দিয়েছে আগুণ ,
এনেছে আকাল জাতির ছারকপাল কেঁদেছে জননী নিদারুণ ।
টেনেছে জাল নকশার ধরতে নাবালক চকসার শীতল গ্রাম,
দেখিনি থামা দিবা-ত্রিযামা নেমে এলো শেষে মুক্তির সংগ্রাম ।
জননীর দামালেরা যদিও পাল ছেঁড়া ধরে নিলো ফাটস্থ হাল ,
উত্তাল ঊর্মি ঠেলে দু'হাত মেলে সরাতে লাগলো পথ-জঞ্জাল ।
অভাগা মায়ের সুত ধরে ধরে জাতিচ্যুত করলো কতল ঘায়ে ,
ছিল প্রতিজ্ঞায় কলব ঘাটে ঘাটে করে তলব মারলো সে পায়ে ।
মারলো পা-দলে বন্দুকনলে অনলে যত ছিল সংগ্রহ হাতিয়ার ,
যদিও ছিল দৈনপিড়ে নয়ন নীরে আনলো সুখ সে স্বাধীনতার ।
স্বাধীন হল বটে গেলো যে অন্যটা ঘটে দেশ-দোসর যারা ,
কেউ শিয়াল শকুন কেউবা ক্ষুধার্ত ঘুণ কেউবা সর্বহারা ।
কেউ চাতক কেউবা মেকী পাতক কেউবা সর্পের ছানা ,
সময়ে ধীরে ধীরে দন্তে কেটে ছিঁড়ে করেছে চৌষট্টি খানা ।
হাতে ধরেছে হাল ফেলেছে ধূর্তের জাল ঠিক রেখে গোলা,
প্রকাশ্যে-সঙ্গোপনে নিধনে নিধনে মা'র হাতে দিয়েছে ঝোলা ।
বলতে পারেনা মুখে যে অনল জ্বলে বুকে এই তো স্বাধীনতা,
দোসরের নামে এই ধরাধামে কালান্তর দেখলাম শুধু শত্রুতা ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026