শেষের স্মৃতি
- রুহুল আমীন রৌদ্র

চৈত্রের ভরদুপুরে,
প্রচন্ড খরতাপে যেন অগ্নিবর্ষণ মর্তে,
স্থলঘাটের মেঠোপথে,দু'জনেই হেঁটে চলেছি,
প্রখরতাময় আবছা ছায়াপথ ধরে।
প্রচন্ড ক্লান্ত আমি,
কোন এক বৃক্ষছায়ে দুর্বাঘাসে,
এলিয়ে দিই তনুখানি শীতলতার পরশে।
তুমি ঠায় দন্ডায়মান,
যেন স্ফিংসের মূর্তি।
ক্ষণপরে, কোমল হাতের পরশ ভুলিয়ে,
আবার চলা,
এ পথের অন্তিম প্রান্তে মোরা,এখন বিদায়ের পালা।
তুমি চলে যাবে বলে, কেঁদে উঠে মনটা,
কাল তো দেখা হবেই,
কে জানত, এই শেষ বিদায়ের ঘণ্টা।
আমি হেলান দিয়ে দাড়িয়েছিলাম,
ত্রিমোড়ের প্রান্তবিন্দুতে, কোন এক গোরস্তান প্রাচীরে।
পাশে থাকা বন্ধু, অন্তর,
সোঁজা চলেছেন সম্মুখপানে,
তুমি চলেছো বামে,আমার গন্তব্য ডানে।
আমি তখনো দাঁড়িয়েই, বিদায় বেদন হৃদে,
অক্ষির প্রান্তে জমেছিল
আবেগী মেঘ।
বিদায়ের ব্যথায় আহত ছিলাম আমি,
যেতে যেতে ফিরে ফিরে দেখেছো তুমি।
তাই বুঝি ফিরে এলে ফের,
আবেগের মধু মেখে আষ্টে পিষ্টে প্রথম আলিঙ্গন,
ক্ষণিক রুমাঞ্চে রুমাঞ্চিত হল মন,
নয়নে নয়ন, অধরে অধর মিশেছিল কিছুক্ষণ।
রৌদ্রের প্রখরতা কিছুটা ম্লান ছিল তখন,
ফের চলে গেলে, দাগ কেঁটে অন্তে,
বারেক ফিরে ফিরে দূর দিগন্তে।
সেখানেই শেষ স্মৃতি,
মৃত মানুষের নগরে,
অতঃপর, লামিয়া আসেনি আর ফিরে।

------০-------


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।