ব্যর্থ প্রতীক্ষা
- রুহুল আমীন রৌদ্র

তুমি তো জানো না, সেদিন তুমি আসোনি বলে,
কতগুলো অভিমানী পরমাণু,
পু্ঞ্জিভূত হয়েছিল অন্তরে।
শরতের স্নিগ্ধ বিকেলে,
পদ্মার কোন এক নির্জন দ্বীপে,
ঘন কাশফুলের বিস্তর অরণ্যে,শুভ্র কাশফুল দুলেছি।
তুমি আসবে বলে,
কতো ঢেউ গুণেছি।
ছোট্ট ডিঙি সাজিয়ে রেখেছিলাম, এ দ্বীপের পাশেই,
চারিদিকে অথই জলের কলরব,
আর বিকেলের স্নিগ্ধ রোদ,
ঢেউয়ের তালে ঝিলমিল,
রুমাঞ্চিত মধুক্ষণ।
কাজলে আঁকা চোখ, অলক্তমাখা পদ,
খোলা চুলে রক্তগোলাপ,
লাল খয়েরি থ্রি-পিস, কপালে ছোট্ট টিঁপ,
শুভ্রতার ভিড়ে আমি যেন এক রক্তজবা।
ভেবেছিলাম শরতের এ বিকেলের বৃথা যাবেনা,
তুমি আসবেই।
অধীর প্রতিক্ষায় পদ্মার মৃদু ঢেউয়ের সনে,
পাল্লা দিয়ে ছুটেছিল বিরহী সেকেন্ড।
অন্তিম দিনমণির রক্তিম প্রভায়,
আরও লাল হয়ে গিয়েছিলাম।
স্যাঁতস্যাঁতে ভেজা ঘাসের জলে,
ভিজে গিয়েছিল নিতম্বখানি।
বয়ে যাওয়া পদ্মার অন্তহীনস্রোত,
যেন অসীম প্রতিক্ষার দুরন্ত থাবায়,
আহত করেছিল মোরে।
একরাশ কচুরীপানায় ঘিরে ধরেছিল মোর ভাবনাগুলো,
তবুও তুমি এলে না।
এ নির্জন কাশবনে, ঢেলেছিলাম কামনার সুধা,
তুমি এসে পান করবে বলে।
সূর্যটি নেমে গেল পাটে, তবুও অধীর প্রতিক্ষায়,
যদি তুমি এসেই যাও।
অহেতুক ব্যর্থ প্রলাপ, তুমি এলেই না।
আমি চলে যাচ্ছি, হয়ত চিরতরে বন্ধু,
কভু যদি এ নির্জন পদ্মার পাড়ে, এ কাশবনে এসো,
অপলক দৃষ্টিতে একবার চেয়ে দেখো,
দেখবে হয়ত বসে আছি এই আমি,
নয়ত পাবে দলিত দূর্বাঘাসে,
বিরহী নিতম্বের একরাশ গাঢ় ছাপ।

-------০------


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।