শেয়াল পন্ডিত ও বোকা কুমিরের ছানা
- সুদীপ্ত সরকার
একদা এক পাঠশালায় শেয়াল ছিল পন্ডিত ৷
কুমির মশাই গর্ব করে বানিয়ে নিল মিত ৷
পরের দিন কুমির মশাই আনল সাতটি ছানা ৷
শিক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেখিও তাঁদের হানা ৷
পন্ডিত শেয়াল কথার ছল ধরল নিজের মতোন ৷
দিনে-দিনে একে একে করল শুরু ভক্ষণ ৷
আচমকা দিন ছয়েক পরে এল কুমির মশাই ৷
সম্বোধন করে শেয়াল বলল তাঁকে ভাই ৷
দেখতে চাইল কুমির ছানা,শিক্ষা পেল কেমন ?
একটিকে সাতবার দেখিয়ে বন্ধ জানালা,সদন ৷
অতি সন্দেহ মনে করে প্রবেশ করল কুমির ৷
হতকারিতা দেখে কুমিরের চক্ষু-দ্বয় যে স্থির ৷
শেয়াল এবার টোপলা নিয়ে বলে পালাই পালাই ৷
ক্রন্দনরত কুমির বলে পেলাম একটি ছানাই ৷
দু'দিন পরে শেয়াল সনে দেখা কুমিরে ৷
কহে বন্ধু জলপথে পার করো আমারে ৷
কুমির এবার মনে ভাবে পেয়েছি দারুণ সুযোগ ৷
মনের সুখে নদীর মাঝেই করবো তাঁকে ভোগ ৷
বন্ধুর স্মৃতি মনে রেখে ওঠাল তাঁকে পিঠে ৷
শক্ত করে ধরে রেখো নইলে মরবে স্রোতে ৷
নদীর মাঝে শেয়াল যখন ধরল শক্ত করে ৷
ঠিক তখনই কুমির পায়ে দিল কামড় মেরে ৷
ঠ্যাং ঠ্যাং করে শেয়াল শুধু চিত্কার পারে ৷
পায়ের কথা স্মরণ করে দিল ঠ্যাং ছেড়ে ৷
কুমিরের মনে সাদ দিবে কামড় পায়ে ৷
তীরে শেয়াল এল চলে লাথি মেরে গায়ে ৷
শেয়াল বোঝায় ঠ্যাং আর পা নয় হে পৃথক পৃথক ৷
বোকা কুমিরের বোকামি দেখে পন্ডিত শেয়ালই সার্থক ৷
রাগে গমগম কুমির তাঁকে এগোল কামড় মারতে ৷
পারল না ছুটে গিয়ে নাগালটি তার ধরতে ৷
দূর হতে শেয়াল বলে ওরে ! কুমির বোকা ৷
ঠ্যাং আর পা একই জিনিস দিয়েছি আবার ধোঁকা ৷
এমন কথা শুনে কুমির কাঁদে হাউ-মাউ ৷
চলল শেয়াল স্বাধীন হয়ে সঙ্গে নিয়ে লাউ ৷
পারল নাকো শেয়ালটাকে ধরতে কোনো দিন ৷
কুমির বোকা ভাবল মনে চির-পরাধীন ৷
পূর্ব-স্মৃতি স্মরণ করে শেয়াল হাসে মনে ৷
আর সর্বহারা কুমির বোকা রত ক্রন্দনে ৷
দুনিয়াতে কোনো কিছু করতে নেই অতি ৷
জেনে রেখো হতে পারে অতি বড়ো ক্ষতি ৷
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।