মিথ্যাবাদী রাখাল বালক
- সুদীপ্ত সরকার
একদা এক রাখাল বালক গেলো গোরু চরাতে ৷
বসে বসে ভাবছিল সে কত কিছু সেই মাঠে ৷
আকস্মিক কুবুদ্ধি নিয়ে এল ছুটতে ছুটতে ৷
সবাইকে ডেকে বলে শোনো মোর কাছেতে ৷
মাঠের শেষে দেখতে পেলাম আমায় কেউ দেখছে ৷
একটু বাদেই শুনতে পেলাম বাঘ মামা যে হাঁকছে ৷
তাইতো ছুটে এলাম আমি কথাগুলি সব জানাতে ৷
লাঠি নিয়ে দলে-বলে সব চলো তাঁকে মারতে ৷
ক্ষণিক বাদে গ্রামবাসীগণ চলল সেই মাঠে ৷
খোঁজাখুঁজি করতে করতে ছুটল পথে পথে ৷
মাঠে গিয়ে দেখে তারা কেউ নেই গোরু বাদে ৷
তর্জন-গর্জনে বালক কহে বলেছিলাম আমি সাদে ৷
হট্টগোল বন্ধ করে ফিরল তারা অযথা ৷
মনে আনন্দ পেল বালক বলে মিথ্যে কথা ৷
ঠিক দু'দিন পরেই ঘটল এমন একটি ঘটনা ৷
সত্য হল বালকের সেই মিথ্যে রটানো রটনা ৷
সকাল সকাল বালক গেলো মাঠে গোরু নিয়ে ৷
গোরু বেঁধে পিছন ফিরতেই অবাক হল চেয়ে ৷
এক নজর দেখেই তাঁকে ভয়ে মন উগ্র ৷
ছিল সেথা তার মামা,নামটি যার ব্যাঘ্র ৷
আকস্মিক ভয়ে বালক ছুটল গাঁয়ের দিকে ৷
পিছন ফিরে মাঝে-মাঝে দেখছে থেকে থেকে ৷
পারল না আর বেশী দূর দৌড়ে বালক যেতে ৷
একটি থাবাই মারল মামা তার ওই ছোট্ট পিঠে ৷
এরপর ব্যাঘ্র মামা গেলো বনে ফিরে ৷
তাইতো গোরু বেজায় চিত্কার করিতেছিল জোরে ৷
বিকেল হলে গ্রামবাসীরা খুঁজতে লাগল তাঁকে ৷
আচমকা জনৈক ব্যক্তি চাইল পথের বাঁকে ৷
তাড়াতাড়ি ছুটে গেলো যত ছিল সেখানে ৷
পিঠে দাগ দেখে সবাই বুঝল মনে মনে ৷
মস্করা করা মিথ্যে কথাটা সত্যি হল তার সনে ৷
গ্রামবাসীর কাছে রইল না আর কোনো কিছু গোপনে ৷
ব্যাঘ্র ব্যাঘ্র আর্তনাদ লোকে শুনেছিল তার মুখে ৷
মিথ্যে কথা ভেবে কেউ আসেনি তার দিকে ৷
মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বালকের জীবন হল মরণ ৷
চিরদিনের তরে ছেড়ে দিল সে নিত্য গো-চারণ ৷
মিথ্যা কথা বলা কদাপি মোটেই ভালো নয় ৷
সদা মোদের নেওয়া উচিত সত্যের আশ্রয় ৷
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।