বেইমান ভক্ত
- সুদীপ্ত সরকার

মানদ করল কাকা কনোজ ৷
পাঠা বলি দিবে যমজ ৷
দেবী মায়ের নিষ্ঠা ভক্ত ৷
পাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত ৷
করল মানদ চুরির তরে ৷
আশা পূর্ণ হবে করে ৷
রবিবারে সে করবে চুরি ৷
জমিদার বাবুর গয়না-জুড়ি ৷
পূর্ণ হল সেই মনস্কামনা ৷
দেবীর প্রতি ভক্তের ছলনা ৷
একদিন দেবী দেখাল স্বপ্ন ৷
বলল তারে হরেক প্রশ্ন ৷
শেষ প্রশ্নটা করল তারে ৷
পাঠা কোথায় মানদ করে ?
স্বপ্নে মায়ের কথা শুনে ৷
বলল সে পরের দিনে ৷
পরের দিনও কাটিয়ে দিল ৷
পাঠার মানদে তূরী মারল ৷
সপ্তাহ পরে আবার স্বপ্নে ৷
দেখা হল মায়ের সনে ৷
ক্রুদ্ধ মাতা বলল এবার ৷
ব্যাপারটা কী মানদ পাঠার ?
উচ্চ স্বরে মাকে বলল ৷
পাঠায় অপারক তা জানাল ৷
মা তাঁকে বলল মানে ?
পাঠা নয়,হংস চরণে ৷
বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো ৷
দেবী স্বপ্নে পুনরায় এল ৷
ক্ষিপ্র মাতা বলল রেগে ৷
মানদের স্মৃতি মনে জাগে ?
একটু হেসে বলল ভক্ত ৷
কালকেই করবো মানদ মুক্ত ৷
তবে হয়তো হংস নয় ৷
মশা বলি দিব তোমায় ৷
ক্ষিপ্র মাতা শান্ত হল ৷
পরের স্বপ্নে আবার এল ৷
বলল সেই একই কথা ৷
ক্ষিপ্র হয়ে চাইল যথা ৷
বলল মাতা মশা কোথায় ?
দেখিয়ে বলল এইতো হেথায় ৷
কাল তাহলে দিবি বলি ?
পারবো না দিতে বুঝলি ৷
মাতা রুষ্ট হয়ে বলল ৷
এবার অভিশাপ বাকি রইল ৷
অভিশাপ দিব তোর সন্তানকে ৷
বুঝবি তখন দেবী মা'কে ৷
এই কথাতে শিথিল হল ৷
ভক্তের ছলে দেবী পড়ল ৷
আমার সন্তান বলল মাকে ৷
সেও তোমার ভক্ত লাগে ৷
নিজের সন্তানকে নিজেই মারবে ?
সৃষ্টিকর্তা কি সহ্য করবে ?
পড়ল বলে মা ফ্যাসাদে ৷
ভক্ত এবার ফেলল ফাঁদে ৷
উপরন্তু আরো ভক্ত বলে ৷
শান্তি পড়ল অশান্তির কবলে ৷
সবচেয়ে ভালো করলে এটা ৷
ধরে ধরে খাও মানদটা ৷
কত মশা দেখেছ ঘরে ৷
দুটি মশাই খেও ধরে ৷
ভক্তের অমন শুনে কথা ৷
মায়ের অপমান-লজ্জা-ব্যথা ৷
বাধ্য হয়ে করল মাপ ৷
মুক্ত হল থেকে অভিশাপ ৷
তাইতো মাতা আজও বলে ৷
ভক্তের জোরেই ভক্তি চলে ৷
কাজেই মাতা বলল সবে ৷
কর্ম করলেই ফলটি পাবে ৷
অতঃপর মা নিল বিদায় ৷
উপস্থিতবুদ্ধিতে ভক্ত খুশি বেজায় ৷
এতদিনে থাকা মানদে ভুক্ত ৷
কর্ম বিনাই মানদ মুক্ত ৷
খুশি ভক্ত,দেবীও বটে ৷
ভক্তের পরিচয়েই দেবী সান্নিধ্যে ৷


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।