মহান ভিক্ষুকের চোরকে দান
- সুদীপ্ত সরকার

একটি ভিক্ষুক থাকত গ্রামে ৷
নামহীন এক অজানা নামে ৷
হেথায়-সেথায় ভিক্ষা করত ৷
আপন মনে গানও গাইত ৷
দিব্যি এভাবে জীবন কাটাত ৷
মাঝে-মাঝে অসুস্থও হত ৷
এইতো সেদিন বাজার হতে ৷
এনেছিল কড়ি পূর্ণ হাতে ৷
আর ঝুলিতে ছিল রসগোল্লা ৷
তাইতো ব্যাটার হল্লা-চিল্লা ৷
কড়ি জমিয়ে রাখত টোপলায় ৷
বিকেল হলে ঘরেতে কাটায় ৷
পরদিন ঘটল এমন ঘটনা ৷
মিথ্যে নয় সেই রটনা ৷
গ্রামেতে একটি চোর এল ৷
সবার আগে তাঁকেই দেখল ৷
অনেক কড়ি টোপলায় আছে ৷
চোর সার্থক চুরিতে এসে ৷
মরা রাতে দিল হানা ৷
ভিক্ষুক নিদ্রায় পেল চেতনা ৷
চোর টোপলা রেখে পালায় ৷
টোপলা নিয়ে ভিক্ষুক দৌড়ায় ৷
ভিক্ষুক দৌড়ে চোরকে ধরে ৷
চোরটি ক্ষমা ক্ষমা করে ৷
ভিক্ষুক এবার বলল তারে ৷
লাগবে নাকো মোর দরকারে ৷
চোরটি শুনে অবাক হল ৷
তার মুখের প্রতি তাকাল ৷
ভিক্ষুক পরিচয় দিল নিজের ৷
হুঁশ হারিয়ে গেলো চোরের ৷
ভিক্ষুক এবার টোপলা নিয়ে ৷
চোরের হাতে দিল ধরিয়ে ৷
চোরটি তখন সুধায় তারে ৷
এমনটা কখনও লোকে করে ?
ভিক্ষুক এবারে বলল রেগে ৷
দরকারটা অধিক আমার থেকে ৷
তাইতো তুই চুরি করিস ৷
প্রয়োজনে আবার মিথ্যাও বলিস ৷
এটা-সেটা নিয়ে জিনিস ৷
লোকের বড়ো উপকারেও লাগিস ৷
প্রয়োজনের তাগিদেই চুরির নেশা ৷
যদিও পরবর্তীতে অন্য পেশা ৷
এমনটা শুনে কহে চোর ৷
ভিক্ষুক নও,জ্ঞানের সাগর ৷
দিব্যি করে বলছি আমি ৷
ছেড়ে দিলাম চুরির কর্মী ৷
এটাই চোরের শেষ চুরি ৷
বাধ্য হয়ে নিল কড়ি ৷
অদ্ভুত আবেগে চোরের কথন ৷
শুনে ভিক্ষুকের মধুর বচন ৷
ভিক্ষুক হয়েও চোরকে দান ৷
যুগ কাটলেও রহিবে মহান ৷
নামটি অজানা আজও সবার ৷
কর্মেই পরিচয় দিয়েছিল তাহার ৷


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।