৪০ টি অণুকাব্য
- সুদীপ তন্তুবায় নীল
(1)
শুনেছি কবির মন হয় গো উদাসী
গভীরে যে বয়ে যায় কথা সুর বাঁশী ।
ভেদ্য পর্দা দ্বারা ঢাকা কথামালা
পর্দা সরিয়ে দেখ নির্মল বেলা ।
(2)
জোর করে কারো মন পাওয়া যায় না
তবুও সে যে মন নেবে ধরে বায়না !
অবশেষে সম্পর্ক হয় ভাঙা আয়না
অশ্রু শুধু যায় যে ঝরে, জোড়া লাগে না !
(3)
আমি বিনিদ্র তারা
তুমি ঘুমন্ত নারী ;
সব মোহ ভেঙে গেছে
তোমার হৃদয়ের নিভৃতে !
শুধু অপেক্ষা ভরে
আমি সেই তারা - রাত্রির তারা ।
(4)
এক বিন্দু জল অশান্ত টলোমল
শাপলা পত্র পরে মুক্তি সুর গানে
কোন একটি ক্ষণে যায় সে গো ঝরে ।
(5)
আকাশ বলে : ওরে মাটি তুই ধূলোবালিময়
বৃষ্টি ছাড়া তুই অচল তোর এটাই পরিচয় ।
মাটি বলে : যাকে নিয়ে তোর এতই অহংকার
তারে আমার বুকে আগলে রাখার আসল কারাগার ।
(6)
মেঘের পানে চাইতে এখন বড়োই লাগে ভয়
অসময়ে মেঘ ভেঙে গো বৃষ্টি যদি হয় !
মেঘটা কি আর কথা শোনে সকাল সন্ধ্যে বয়
মৃদঙ্গ মোর সুখের বাসর বৃষ্টি জলে ক্ষয় !
(7)
ছুটছে সময় ছুটছে প্রহর
অক্লান্ত সুর ধরে
এরই বুকে ক্লান্ত জীবন
চরম অন্ধকারে.... ।
(8)
ক্লান্তিহীনা সময় ওগো
কথা বা কার শোনে
নগ্ন হয়ে বয় যে আলো -
আঁধারের জাল বুনে ।
(9)
মুছতে গেলাম চোখেরই জল
মুছে গেল স্বপ্ন কাজল
অন্ধ তিমির ডাক দিল গো -
আঁধার সিন্ধু পার হবি চল ।
(10)
ছুঁতে গেলাম ঘাসের শিশির
মাখতে হল ব্যর্থ আবির
হারিয়ে গেল ঘাসের পরে
চক্ষু নদী ভাঙল দু'তীর ।
(11)
শেষ গোধূলির ধূসর আলো
সাঁজাল ধোঁয়ায় ঢেকে দিল
বাকি কিছু রইল না আর
চরম তিমির গিলে খেল ।
(12)
ধরতে গেলাম প্রজাপতি
মানতে হল হাজার ক্ষতি
যেই পিছুটি ফিরেছি গো
ছড়িয়ে দিল স্বর্গ জ্যোতি ।
(13)
আঁধারের বুকে যখন আঁধারের বন্ধন
তারই পরে হয় যে আলোর নির্গমন ।
(14)
মেঘলা মেঘেরা এসে বৃষ্টি যায় দিয়ে
পরক্ষণে উষরতা নিয়ে যায় ধুয়ে ।
(15)
পাথারে লহরী বয় উষ্ণ শীতল
এরই মাঝে জাগে আলো-আঁধার নির্মল ।
(16)
বলাকা সডানে থাকে অনেক আঁধার
স্খলায় যে দিবাশেষে হয়ে যায় পার ।
(17)
নীল বিহায়সে বিহারে বিহগ
ছেড়ে যে আঁধারের নির্মোক,
চায় অজান্তেই আঁধারের পানে
তার নিগূঢ়েতে দুটি চোখ ।
ঝরা পালকগুলো রইবে পড়ে
এই নীলিমার হবে শেষ,
জড়াবে সেই চরম আঁধারেই
তার যে নিথর অবশেষ ।
(18)
এক পৃথিবী আলোর তরে
ছুট্টে গেলাম ভাবন ঘরে ,
গিয়ে দেখি রঙীন শত
মাটির পুতুল আছে পড়ে ।
পুতুলগুলো আঁকড়ে ধরে
স্বপ্ন সাজাই নতুন করে
অবশেষে হয় যে গুড়োঁ
জীবন নদের বালুচরে ।
(19)
সময়ের তরী বেয়ে আলো অন্ধকার
এরই পরে ভর করে এপার ওপার ।
অক্লান্ত এই তরী দিবারাত্রি বয়
কোনো খেয়াঘাটে ভুলে বাঁধা না যে রয় ।
(20)
উঠোন জুড়ে শশীর আলো ঘোর পূর্ণিমাতে
অন্ধ ঊর্মি গ্রাসিবে সব কৃষ্ণপক্ষ রাতে ।
জোছন যাবে শশীর সাথে তন্দ্রা ভরা দেশে
আঁধার বিন্দু শিশিরের ন্যায় ঝরবে উঠোন ঘাসে ।
(21)
খড়ের চালের ফুটো দিয়ে ঢোকে চাঁদের আলো
উপোসী উনুন বলে নেই আমি ভালো ।
ভরেছে ঘর অন্ধকারে উঠোন কেঁদে মরে
অভাবের শিশির শুধু বিন্দু বিন্দু ঝরে ।
(22)
আঁশটে আঁধার শেষে
নবীন প্রাণের বেশে
আলো ছুঁই ছুঁই,
আলোর শেষে চরম
আঁধার ঘেরা নরম
খড়ের পালুই ।
(23)
উষাবেলার বিহগ হবে মোদের বিবেকখানি
মুছে দেবে মনের ঘরে আঁধার ভরা গ্লানি ।
ফুল ফোটাবে গান শোনাবে মেলে দুটি ডানা
দুর নীলিমার সাথে হবে বড়োই জানাশোনা ।
(24)
বিত্রস্ত হৃদয়ে মোর স্বপন দুর্মরে
রাখতে চায় পদচিহ্ন শাদ্বল প্রান্তরে ।
নিগূঢ়ে সিসৃক্ষু তারা উর্বর জমিনে
মনসিজ স্বপনেরা রয় অবার্চীনে ।
(25)
কোমল শিলা ক্ষয়ে যায় ঝড় বৃষ্টি জলে
কঠিন শিলা পরস্তরে রয় সাবলীলে ।
এভাবে যদি যায় ভেঙে বিশ্বাসের বীণ
সে বিশ্বাস ফিরে পাওয়া বড়োই কঠিন ।
(26)
না পাওয়ার যন্ত্রণায়
জেগে উঠে আঁধার
কেটে যায় সব তার
হৃদের তানপুরার !
পড়ে থাকে খাবার থালায়
পান্তাভাত আর নুন
অসহায় হয়ে চেয়ে থাকে
উপবাসী উনুন ।
(27)
একবিন্দু জল ঝরিয়া অচল
শুষ্ক ধূলিরা হাসে-কি করবি বল !
অঝোরের সুর বৃষ্টি নুপূর
ধূলি সব কাদা হয়ে বয়ে গেল দূর !
(28)
অনন্ত আকাশ ওই সীমা নাই তার
জায়গা তো নাই তবু কষ্ট রাখার !
অঝোরে সে কেঁদে যায় সবার সন্মুখে
এতটুকু ধৈর্য সীমা নাই তার বুকে ।
(29)
কেউতো চায় না কভু মেঘলা আকাশ
নীলিমার নীচে চায় সুখের আবাস ।
যেখানে রবে সুখ হয়ে অনন্ত নীল
ডানা মেলে দুখ হবে দিগন্ত চিল
(30)
প্রেম ভালোবাসা আছে সব বিশ্বাসে
বিশ্বাস নেই সব প্রেমের আবাসে ।
ইঁট বালি ছাড়া তো আবাস হয় না
ইঁট বালি গুঁড়ো হলে ভাঙা আয়না ।
(31)
তানপুরাটা কেটে গেলে তন্দ্রিবে যে সুর
রিক্ত গলা রইবে পড়ে হাঁটবে কতদূর !
রঙীন যতো সুরের সাথে বইবে না ঝংকার
অবশেষে গিলে খাবে চরম অন্ধকার ।
(32)
উঠোন জুড়ে অন্ধকার !
ভাঙা উনুনে রান্না হয়েছে
কিছু বিবর্ণ অন্ন,
তবুও সে উপোসী !
বৃষ্টি ঝরল
কেঁদে গেল উপোসী উনুন....
(33)
নেত্রযুগল অশ্রু সজল
হৃদমাঝারে স্মৃতির আঁচল
সুখের শশী সর্ব অঙ্গে
মেখেছে আজ অন্ধকাজল ।
(34)
নিষ্প্রভ বাঁকা চাঁদ,
তরল আঁধারের ঢেউ মেখে
আমি নিশাচর !
বেঁধেছি এক খেলাঘর
যেখানে আঁধার গিরির
বুক চিরে বয় আলোকের নির্ঝর
(35)
মজ্জা ভরা তাল পাটাতন
এক্কেবারে খাঁটি
লোহার চেয়েও কঠিন সে যে
জল পেলে সে মাটি ।
(36)
শাখীর সবুজ পাতা
নীলের কবিতা খাতা
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে
কাব্য কাহিনী গাথা ।
শাখীর প্রসূন কলি
নীলের ভাবন ঝুলি
মুক্তি দিতে আলোক
দিবারাত তারে খুলি ।
(37)
জ্বলছে আগুন উঠছে ধোঁয়া
পুড়ছে দেখ হাতের মোয়া
এতটুকু নেই কো দোয়া
স্বপ্ন হল ছাই,
হাঁটতে হল মেঘলা রোদে
একটা চড়ুই দুরের ছাদে
ব্যর্থ হয়ে মনটা কাঁদে
এ করুণ অবস্থায় ।
(38)
কিশলয় বসন্তে শাখে শাখে হাসে
তার সাথে কুহু সুর সমীরণে ভাসে ।
না জানি যৌবনের কত না আবেগ
প্রেমের সুরেতে ঢাকে বেদনার মেঘ ।
(39)
মাটির বুকে মুক্তি আছে হর্ষে আছে ভরা
কখনো বা নেত্র নদে অশ্রু জলের ধারা ।
জীবন নদে জোয়ার ভাটা আলো অন্ধকার
পথের শেষে মাটির বুকে চরম মুক্তি দ্বার ।
(40)
বিন্দু বিন্দু চিন্তাধারা অশ্রু ধারা যত
সুবিশাল কষ্ট গড়ে নীল সিন্ধুর মতো ।
ফুরালে দিন সন্ধ্যা নামে রাত্রি ঘিরে আসে
টুকরো টুকরো রাত্রি কণা চতুর্দিকে ভাসে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।