কথন বিশেষ - পর্ব ১ - আত্মকথন
- চিত্রণ ভট্টাচার্য

-শুনছেন?
-বলেন।
-কিছু খুঁজছেন?
-হ্যা। আমাকে!
-কেন? পাচ্ছেন না?
-হারিয়ে ফেলেছি আমার আমিত্বকে।
-বড্ড আঁধার যে। খুঁজে পাবেন?
-মনে হয়। কেননা আঁধার তো শুণ্যতার প্রতীক। আর শুণ্য থেকেই তো সৃষ্টির আদি।
-পৃথিবীর আলো ফুটতে তো ঢের দেরী। কী করবেন?
-আমিত্বকে প্রাপ্ত করলে প্রভাকরের ন্যায় আলোকিত হয়ে যাব। এই পৃথিবীর আঁধার যেন নস্যি প্রতিপন্ন।
-খুঁজে না পেলে ক্ষতি কী?
-জীবন তো ব্যবসা নয়!
-বড়ই জ্ঞানী পন্ডিত?
-নস্যি মূর্খ আমি বড়ই আনাড়ি।
-নিজ প্রশংসা কেন করেন না?
-যে মেঘ যত গর্জায় সে ততো বর্ষায় না!
-কথা ঘোরাতে ভালো পারেন!
-কভূ চেস্টা করিনি। হয়তো পারি।
-ধরে নিন কন্টকশয্যার উপর আপনা পিতা-মাতা ঝুলন্ত। সর্বাগ্রে কাকে বাঁচাবেন? একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনকে হারাতে দেখতে পারবেন?
-নিজে কন্টকশয্যায় শয়ন করতে ক্ষতি কী?
-সাহসে কুলোবে?
-ঘটনাটি কী আদৌ ঘটবে?
-বড়ই চতুর!
-অতি নগণ্য!
-কী পছন্দ করেন?
-প্রকৃতি!
-আর কিছু?
-পুরুষ!
-আরও কিছু?
-আর তো নেই বাকি এই ত্রিভুবনে!
-কে সেই পুরুষ?
-আমার সৃষ্টিকর্তা।
-আর প্রকৃতি?
-যা কিছু দেখি!
-কোন ধর্ম আপনার?
-মানবধর্ম। জাতে মনুষ্য নামে সনাতনী।
-সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন আবেগ?
-বিবেক!
-ভালোবাসা তবে কী?
-সৃষ্টির ভিত্তি!
-ভালোবাসেন কাউকে?
-প্রকৃতিকে!
-আর পুরুষকে?
-তিনিও তো প্রকৃতিতে!
-আপনি কে? মানুষ?
-না। আমি আত্মা, আমি আত্ম-চিন্তন মাত্র। বাকিটা তো নশ্বর!
-সৃষ্টিকর্তাকে দেখেছেন?
-জলে লবণ গুলার পর কী আর লবণ দেখা যায়?
-সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ কী?
-পানিতে লবণের উপস্থিতির যা প্রমাণ!
-ভালো থাকবেন!
-খারাপ ছিলাম কবে?
-একা একা কীভাবে ভালো থাকা যায়?
-যেভাবে গর্ভে আনন্দে দিনানিপাত করা হয়!
-মায়ার ব্যাখ্যা কী?
-বিবেক যাহাতে আন্দোলিত হয়না তাহাই মায়া।
-আপনি ধন্য!
-আমি অতি নগণ্য!


২৮-১০-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।