ঈশ্বর -পরমতত্ত্ব
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)

সর্বত্র যিনি, তিনিই মূল,
আলো-অন্ধকার, শাশ্বত ফুল।
নেই কোনো রূপ, নেই কোনো গতি,
তবু তিনিই চিরনিত্য জ্যোতি।
অদৃশ্য হলেও, অনুভব জানে,
ঈশ্বর থাকেন নীরব প্রাণে।
অন্ধকারে জীবন ফিকে,
তাঁরই দানে জীবন টিকে।
বাতাস বয় শান্ত সন্ধ্যা,
তাঁরই আছে মহান স্পন্দ্যা।
চাঁদের আলো বাড়ে ও ক্ষয়ে,
শুভ-অশুভ সময় বয়ে।
জীবন চলে পক্ষের টানে,
আলো-মায়ার মিলনখানে।
প্রকৃতির মাঝে আত্মার নৃত্য,
জীবনধারায় অনাদি সত্য।
পরমাত্মার সাগরে স্রোত,
সকল প্রাণে তাঁরই হোত।
বৃক্ষের মাঝে কুসুম ফুটে,
তাঁরই ছোঁয়ায় সুবাস ছুটে।
বৃষ্টি নামে, মেঘ ডাকায়,
তাঁরই ইশারায় জল ছড়ায়
বেদের ধ্বনি, চিরন্তন জ্ঞান,
সত্য-অসত্যের করে বর্ণন।
ঋগে আছে সৃষ্টির বাণী,
যজুরে যজ্ঞের আলোকে আনি।
সামের সুরে হৃদয় জাগে,
অথর্বেতে তন্ত্রের আগে।
বিজ্ঞান বলে মহাকাশ রচে,
ঈশ্বর আছেন গোপন গাছে।
সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, স্থূলাতিস্থূল,
তাঁরই সৃষ্টি বিশ্ব রঙধূল।
মাটি ও জল, অগ্নি-সমীর,
আকাশে ভাসে জীবনের নীর।
পাঁচটি তত্ত্বের মিলন ধরে,
জীবনস্রোত বিশ্বে সরে।
সাংখ্য জানায় প্রকৃতি-পুরুষ,
যোগে ধ্যানে আত্মার হুঁশ।
ন্যায় দর্শন যুক্তির ভাষা,
মীমাংসা বলে ধর্মের আশা।
বৈশেষিকেতে পদার্থ তত্ত্ব,
ব্রহ্মসূত্রে সত্যের রথ।
সাতটি পাপ হৃদয়ে বাসে,
চুরি-ব্যভিচার কুটিল হাসে।
হত্যার তাপে পুণ্য পুড়ে,
অগ্নিসংযোগ সর্বনাশ করে।
নেশার ঘোরে ভাসে চেতনা,
অসততা নিয়ে মিথ্যার কল্পনা।
অশ্লীলতার বিষে জ্বলে মন,
ধ্বংস ডাকে নিজ সত্তার সন।
যম নিয়মে আত্মশুদ্ধি,
আসন-প্রাণায়ামে সৃষ্টির মূর্ছি।
প্রত্যাহারে ইন্দ্রিয় বশ,
ধারণায় মনে জ্ঞান প্রকাশ।
ধ্যানেই আসে চরম বোধ,
সমাধিতে মিলে ব্রহ্মসন্ধান শোধ।
সৃষ্টির আদিতে তিনিই ছিলেন,
রূপ-রস-বর্ণ ছাড়া মিলেন।
অদৃশ্য হলেও, অনুভব জাগে,
তাঁরই প্রেমে প্রাণ যে লাগে।
দুই চক্ষে দেখি জগতের রূপ,
দুই কর্ণে শুনি সুরের সুখ।
নাসারন্ধ্রে নিঃশ্বাস বয়,
মুখে কথা হয় হৃদয়ে রয়।
পায়ু ও উপস্থ জীবনদাতা,
নবদ্বারে থাকে প্রাণের বারতা।
উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম,
দিগন্তজোড়া দিশার কিশলয়।
ইশান-বায়ব্য শুদ্ধির বার্তা,
অগ্নেয়-নৈঋতে শক্র হারা।
উর্ধ্বে আশার আলোক প্রবাহ,
অধোতে থাকে অন্তিম গাথা।
ঈশ-উপনিষদের সত্যের ডাক,
কঠ-উপনিষদে মৃত্যুর শপথ।
ছান্দোগ্যে সুরের স্রোত,
বৃহদারণ্যকের বিশাল উৎস।
মুণ্ডকে জ্ঞান-সাধনা সাধ,
মাণ্ডুক্যে ব্রহ্ম-অভিসন্ধি সাধ।
বারো মাসে সময় চলে,
সূর্যের পথে ঋতু গলে।
মাঘে শীত, বৈশাখে দাব,
আষাঢ়ে মেঘের মেলায় স্নান।
শরতে ফোটে শিউলির হাসি,
হেমন্তে ধানের সুবর্ণ শাখি।
সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের মাঝে,
তাঁরই ধ্যান জ্বলুক সাজে।
এই জীবনে তাঁকে ভজি,
পরমব্রহ্ম হৃদয়-খুঁজি
যোগের ধ্যানে, প্রেমের তপে,
তাঁরই ধ্যানে হৃদয় রবে।
তিনি আছেন মহাবিদানে,
তিনি আছেন অন্তরযানে।
নদীর স্রোতে, পাতার নড়নে,
আছেন তিনি রিক্ত বর্ণে।
সত্য, শিব, সুন্দর তাঁর,
তাঁরই নাম জপে সংসার।
গীতার বাণী, বেদের সুর,
তাঁরই কথার অনুরণন পূর।
সত্য সন্ধানে যাত্রা চলে,
তাঁরই জ্যোতিতে স্নান করি জলে।
এই বিশ্বে যিনি আছেন চির,
তাঁরই আলোয় প্রাণের নটীর।
বেদ, দর্শন, যোগের মন্ত্র,
সেই ব্রহ্মের আলোক তন্ত্র।
শত চরণে বর্ণিল জ্ঞান,
তাঁরই মাঝে বিশ্ব প্রাণ।
সত্যের পথে চলতে চাই,
পরমব্রহ্ম চিরন্তন ঠাঁই।
তিনি আছেন কৃষ্ণের বাঁশি,
রামের বাণ, ধ্যানের হাসি।
বুদ্ধের বোধি, শঙ্কর জ্ঞান,
তাঁরই মাঝে নির্ভর প্রাণ।
সেই চেতনায় বিশ্ব নাচে,
তাঁরই সুরে প্রাণ যে বাঁচে।
অন্তরতম প্রেমের মাঝে,
তাঁরই ছোঁয়া আনন্দ বাজে।
নিরব শব্দ, শাশ্বত ধারা,
তাঁরই মাঝে জীবন সারা।
চেতন জাগে, তপস্যা জ্বলে,
পরমব্রহ্ম প্রেমে জলে।
নিষ্কলঙ্ক, নিরাকার,
তাঁরই মাঝে অনন্ত পাথার।
আলোকিত সে চেতনা,
মহাজাগতিক স্পন্দনা।
সকল যাত্রার অন্তর বাঁধন,
তাঁরই আশ্রয়ে চিরনির্বাণ।
এই জীবনের মূল যে ধারা,
পরমব্রহ্ম সত্য-সাধনা।


১৫-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।