হ্যাঁ
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)
হ্যাঁ—
বলেছিলাম একদিন,
যখন মেঘের অন্তরালে সূর্য ছিল অগোচরে,
আমার বুকের ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছিল তৃষ্ণা।
তখন, আমি বলেছিলাম "হ্যাঁ",
যেন ঘুমন্ত মরুতে প্রথম বৃষ্টি ঝরে পড়ে—
যেন মাটি সেই বৃষ্টির চুম্বনে প্রাণ ফিরে পায়।
হ্যাঁ—
বলেছিল সে-ও,
যখন সাগরের ধারে দাঁড়িয়ে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—
“তুমি কি একটুকু পানির মতো মিশে যাবে আমার সমস্ততে,
না কি তটের বালির মতো ভেঙে পড়বে বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের মাঝে?”
হ্যাঁ—
বলেছিল তারা,
অভাবের ভেতরেও জীবনে যে বাঁচে,
সেই শূন্য পকেটেও যে কপালের রেখা,আঁকা থাকে।
আমি বিশ্বাস করেছিলাম,
আর সেই বিশ্বাসেই ঘর তুলেছিলাম বালির উপর।
তখন অভাবের খাঁজে, জীবন জুড়ে,
শিখেছিলাম— এক চিলতে তেলের বাতির মতো
আমরা পুড়ে গেলেও তার আলো হারায় না।
হ্যাঁ—
বলেছিলো ঈশ্বর,
কিন্তু নীরবে।
আকুল কান্নার ভিতরেও এক নিঃশব্দ আলোর রেখা টেনে,
জানিয়ে দিয়েছিল—
যন্ত্রণাও একধরনের প্রার্থনা।
হ্যাঁ—
বলেছি আজও,
যখন প্রিয় মুখটা চলে যায় কোনো অনন্তে,
যখন প্রেম মানে আর বাঁধন নয়—
কেবল ছেড়ে দেওয়ার নাম।
হ্যাঁ— বলি প্রতি শূন্যতায়,
কারণ “না” বলা মানে তো নিজেকে অস্বীকার!
আর মনে হয়, সেই 'হ্যাঁ' শীতলতার মতো—
যতই তাকে ছোঁও, তার ঠান্ডা অনুভব হয় না ঠিকই, তবুও প্রতি স্পর্শে এক নতুন আশা উথলে ওঠে।
হ্যাঁ—
এই "হ্যাঁ"
আমার হৃদয়ের শেষ পাতা,
যতটা সাদা, ততটাই কালো—
একই রংয়ের ছায়া এবং আলোতে থাকা ফুলের মতো।
যে "হ্যাঁ" এক জীবনের প্রতিজ্ঞা,
যে "হ্যাঁ" জীবনের স্বীকারোক্তি,
এবং সেই "হ্যাঁ" এক আত্মপ্রকাশ,
আমার অস্তিত্বের কবুলনামা
যেখানে ছায়ার ভেতরেও আলোর সন্ধান পাওয়া যায়
১৯-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।