সেফটিপিন
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)
শাড়ির কোণে ঝলমলে সেফটিপিন,
বড়লোক রমনীর ঠোঁটের পাশে হাঁসি।
তার কাছে তুমি শুধুই সাজের অলঙ্কার,
বিলাসের বর্ণমালা, গৃহস্থের গর্ব।
কিন্তু ফুটপাথে পড়ে থাকা কঙ্কাল ছেলেটি,
তোমাকে খোঁজে অন্য কারণে।
তার খিদের গহ্বরে নেই রুটি,
আছে শুধু ঘাম, পচা স্বপ্ন,
আর একফোঁটা কল্পনা—
যদি তোমার ধারালো মুখটা
তাকে বিঁধে দিতে পারত ভিতরে,
সেই ক্ষুধার কুন্ডলী পাকানো মাংসপেশীতে,
তবে হয়ত আর খিদে লাগতো না!,
তবে হয়তো ভাত চাওয়ার লজ্জাটা কমত কিছুটা!
তুমি এখন কাঁপা হাতে ধরা এক বিপ্লব,
তুমি কি এখনো সাজসজ্জা?
নাকি তুমি নীরব এক আত্মহত্যার প্রতীক,
এক সামান্য কাঁটা হয়ে
সমাজের পচা রক্তে বিদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায়?
তুমি অস্ত্র—
একটা নিঃশব্দ, ক্ষুধার বিরুদ্ধে করা আত্মবিদ্রোহ।
যে মা তার সন্তানের মুখ চেয়ে
শুধু একমুঠো ভাত জোগাড় করতে পারেনি,
সে ভাবছে, যদি সেফটিপিন দিয়ে নিজের বুকটা ফুটো করে দেয়—
হয়তো ব্যথাটা খিদের থেকে সহজ হবে।
আর ওই নারী, যার শাড়ির আঁচলে আজো সেফটিপিন,
সে কোনো গয়নার জন্য নয়,
সেই শাড়ি আজ শরীর ঢাকার শেষ চেষ্টামাত্র।
খিদের জ্বালায় সে বেছে নেয় রঙিন আলোয় দাঁড়ানো,
পৃথিবী তাকে ডাকে—বেশ্যা!
কিন্তু সেফটিপিন জানে, সে কেবল এক ক্ষুধার নিরুপায় উত্তর।
তুমি তো ছিলে সাজের রক্ষাকবচ,
আজ তুমি হয়ে গেলে তার বিক্রির সাক্ষী।
তুমি কি জানো,
তোমাকে খোঁজে এক অন্তসত্ত্বা,
যার পেটের ভেতর বেজে ওঠে সমাজের বিচার?
যে বলে, “আমার শরীর নয়, আমার ক্ষুধা দেখো।”
সে চায় না আর খাবার—
সে চায় এক টুকরো সেফটিপিন,
যে মুখ বন্ধ করে দেয় খিদের, একেবারে চিরতরে।
তুমি নিঃশব্দ বিদ্রোহ,
এক দগদগে প্রশ্নচিহ্ন
যা বিলাসের শাড়িতে নয়,
উঠে আসে রক্তাক্ত শরীরের উপরে।
হে সেফটিপিন, তুমি এক টুকরো লৌহ—
কিন্তু তার চেয়েও কঠিন তোমার ব্যঙ্গ,
তুমি বোঝাও কে কেমন বাঁচে,
কারো কাছে জীবন মানে শোভাবর্ধন,
আর কারো কাছে,
জীবন মানেই বেঁচে থাকার লড়াই— সূঁচালো,
সেই সেফটিপিনের মতোন।
২০-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।