নিশিঘরের ডাক
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)
সানু... সানু...
কে যেন ডাকে, মাটি ফুঁড়ে ভেসে আসে ঝিঁঝিঁর স্বর।
কান পাতলে শোনা যায়—
জ্বালানির ভেতর লুকোনো এক পুরোনো দীর্ঘশ্বাস।
মাটির দাওয়ায় এখন পাথর,
তবু স্বপ্নে ফিরে আসে নরম গন্ধ, গোবর-লেপা উঠোন।
ঘরটা পাকা, কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই
স্বপ্নে ফিরি সেই মাটির ঘর।
দেখি— সেই পুরোনো মাটির দেওয়ালে লেপা গোবরের গন্ধ,
আঙিনায় ফাটল ধরা বিকেল,
স্বপ্নের জানালা খুলে যায় অন্যপথে।
যেখানে কাদা মাটির ফাটলে হেঁটে যেত সময়,
আর কোণে জড়ো হয়ে থাকত
ইংরেজ আমলের পোড়া কাঠ, ইতিহাসের বাক্স
একটা জ্বালানির স্তূপ,
যার ধারে দাঁড়িয়ে থাকত দুই ছায়া—
অর্ধেক আলো, অর্ধেক অভিমান।
তারা শুয়ে আছেন চৌকাঠ পেরোনো নিস্তব্ধতায়—
আমি চিৎকার করি,
কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়,
সে যেন বিদায়ের কান্না,
যা আমি কোনোদিন বলিনি।
তারা আমাকে বলে না কিছু,
তবু আমি কেঁদে ফেলি,
যেন তারা চলে যাচ্ছে
এক চিরকালীন অভিমানে।
তাদের চোখে ছিল জোৎস্নার মতো নরম দাগ,
তাদের পায়ের ধ্বনি যেন পুরোনো তালপাখায় ঘষা,
তারা চলে গেল--
পশ্চিম দিকে দরজা নিজের থেকেই বন্ধ করে।
তারা কি আমায় মনে করছে?
নাকি আমি এখনও তাদের থামিয়ে রাখতে চাই?
আমার ভাঙা ঘুমের চৌকাঠে?
তারা চলে যায় স্বপ্নের অন্তিম প্রদীপ হাতে,
আর আমি জেগে থাকি এই আধেক-পাকা জীবনে নোনাজল ভরা চোখে।
গোয়ালঘরে ঝিঁঝিঁ খালি পায়ে দাঁড়িয়ে,
বলে— “সব গরু মরেছে সানু,”
আমি দৌড়াই, দেখি শূন্যতা কেবল!!
গোলায় নেই ধান, উঠোনে নেই হাসি।
“সব শেষ”— কেউ বলে না,
তবু আমি বুঝে যাই-
তারা চলে গেল, ঠিক যেমন নদী সরে যায় চরের বুক থেকে;
কিন্তু রেখে যায় —
শীতলতা, কাদামাটির গন্ধ,
আর একটি নাম —
যা স্বপ্নে শুধু আমি শুনি, কেউ আর নয়।
০৩-০৫-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।