ইনভার্টার
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)
চাঁদের মতো মানুষের মন, আলো দেয় শুধু রাতে,
ভোর হতেই সে মুখ ফিরায়, ছায়া ফেলে পাতে।
যারে দেখে মনের চোখে, প্রয়োজনের তালে,
তারই ঠাঁই হয় না শেষে, গর্বিত শত কালে।
অহংকার সোনার কাঠি, ছুঁয়ে দিলে সব যায়,
ন্যায়-অন্যায় এক হয় তাতে, বিচার গিলে খায়।
যার পকেটে শব্দ থাকে, টাকার ছাপা কালি,
তার হাসিতে নাচে সভা, বাকিরা পায় গালি।
বন্ধুত্ব এক ভিজে কাঠি, জ্বলে যতক্ষণ তেলে,
সেই আগুনই নিভে গেলে, থাকে না তারা দলে।
যাকে ধরে স্বপ্ন রচিত, যার ডালে ঘুম আসে,
সেইও একদিন পড়ে থাকে, “ব্যবহৃত” হিসেবে পাশে।
ইনভার্টার ছিল সে হৃদয়, না বলেও দেয় আলো,
অন্যের সুখে নিজে পোড়ে, পায় না দাম ভালো।
চুপচাপ যে পাশে ছিল, অন্ধকারে চাঁদ,
তারই নামে কাঁদে পরে, চাওয়া পাওয়ার স্বাদ।
স্বার্থ হলে মানুষ স্মরণ, ফুরোলে বিস্ফোরণ
শ্রদ্ধা এখন সোফার পিছে, কাপড় ঢাকা আসবাবন।
ভালোবাসা ছবির মতো—ফ্রেমে বন্দী প্রাণ,
দেয়ালে ঝোলে, হৃদয়ে নয়, চোখে পড়ে ত্রাণ।
জন্ম দেয় যে আগুন কভু, তারই নামে ছাই,
আলোকময় যার ব্যথা ছিল, তাকে ভুলে যাই।
প্রেম যেন এক পানির কল, ঘুরলে আসে স্রোত,
দুই হাতে পায়, তৃষ্ণা ফুরোলে, বন্ধা মেয়ের নথ।
তাই বলি—হয়ো না শুধু নিঃশব্দ এক প্রদীপ,
আলো যেথায় মূল্যহীন, নিভে যাও নিরূপদ্রীপ।
নিজের বুকে আগুন রাখো, ছড়াও তারই দাহ,
যারা বুঝবে, তারা পাবে—বাকি, ছায়ায় নিঃশব্দ গৃহ।
০৮-০৫-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।