রবি অর্ঘ 2
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)

তুমি ছায়াঘেরা দুপুরে বিস্তর নির্জনতা,
বুকের গহীনে ঝরে-পড়া চুপকথার ব্যঞ্জনা।
তুমি নীলে নীল জ্যোৎস্না, ভোরের কুয়াশা-ভেজা বেলা,
তুমি শব্দের সুরলিপি—শ্রুতিমধুর খেয়া-খেলা।

তুমি শরতের শিউলি গন্ধে,
ঘুম ভাঙা ঘরের প্রাতে,
তুমি জলছবির আয়নায় লেখা
অলিখিত কথা রাতে।

তুমি পুস্তকের পাতায় পাতায় চুপ করে বলা প্রেম,
তুমি আলোর চিঠি পাঠাও, আঁধারে বসে অপ্রেম।
তুমি ধানের শিষে বাতাস হয়ে, হাসো মাঠের বুকে,
তুমি শব্দের চেয়ে গভীর কোনো নৈঃশব্দ্য সুখে।

তুমি আকাশের শিরায় শিরায় সুরের মতন বাজো,
তুমি মৃত্যুরও ওপারে যেন অনন্ত প্রেমের সাজো।
তুমি শূন্যের ভিতর ভর, তুমি কবিতার ধ্রুব তারা,
তুমি হৃদয়ের ঘরে বাঁধা সন্ধ্যার শান্তি-ধারা।

তুমি অন্তরে দোলার মতন কাঁপাও বাসনার ডাল,
তুমি কুঁড়ি ফুলে জেগে থাকা গোপন আবেগের চঞ্চল চাল।
তুমি বাউলের একতারা, তুমি গীতবিতানের গান,
তুমি রাত্রির সুরভিতে ফোটা নিঃশব্দ ভালোবাসার তান।

তুমি শ্যামার চোখের ভাষা, চিত্রাঙ্গদার ছায়া,
তুমি রতনের চিঠির ভাঁজে শিশুর মতো মায়া।
তুমি বিনোদিনীর ভেজা মন,নব বসন্তের কুহু।
তুমি মেহের আলীর হাহাকার,নৌকাডুবির ঢেউ।

তুমি দাদাবাবুর ফেরার আশায় কান্না জলের ধারা,
তুমি শান্তিনিকেতনের পথে ধূপ-আলোয় জ্বলা তারা।
তুমি ‘সহজ পাঠে’ ফিরে আসা ছোট্ট নদীর গান,
তুমি বাংলার মুখ, তুমি বাঙালির প্রাণ।


০৮-০৫-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।