নিকোটিন
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)
চুপচাপ রাতের কোণে,
কংক্রিটের সরু ধারে —
একটা জীবন জ্বলতে থাকে,
যেন নিঃশ্বাস হারায় বারেবারে।
ধোঁয়া ওঠে — যেন দগ্ধ কোনো গোধূলি,
চোখে গলে পড়ে বিষাদের বৃষ্টি।
এক ফুঁ-এর ভেতর অশ্রুজল লুকায়,
তামাকের গন্ধে মন যেন শুকায়।
প্যাকেটের গায়ে মৃত্যুর হুঁশিয়ারি,
তবু কত প্রাণ খোঁজে এতে হা হুতাশকারি।
যেমন বিষণ্ন নদী খোঁজে নোনতা নোনা—
নিকোটিনও তেমনি এক বিষ-মধু পারিজাত বৃক্ষে বোনা।
কেউ ভাবে, ও বিষ, আমি দেখি এক চাঁদ,
কালো হলেও সে দেয় ঘুমের সান্ত্বনা-স্বাদ।
কেউ ভাবে আগুন, আমি বলি জোনাকি—
অন্ধকারে যে জ্বলে, বুকের ভিতর শূন্যতা ঢাকি।
প্রেম হারানো একটা ছেলে,
যখন কাঁপা হাতে জ্বালায় সিগারেট—
সে জানে ,এটি তাকে মেরে ফেলবে,
তবুও কিছুক্ষণ সে বেঁচে থাকে—
একটা নিঃশ্বাসে পুরোনো প্রেমের ছায়া খুঁজে পায় বলে।
এক বাবা, যার ছেলে ফিরেনি যুদ্ধ থেকে—
চায়ের দোকানের কোণে বসে,
একটা বিড়িতে আগুন দেন চুপিসারে।
হয়তো তামাকের গন্ধেই আজ ছেলের খোঁজ ধোঁয়ার সুরে ।
শরীর হয়ত হারায় তার ভার,
তবু মন পায় এক নিঃশব্দ গিটারের তার।
হতাশা, বিষণ্নতা, অবসাদের ধূপ,
নিকোটিন যেন সেই ক্ষতিপূরণের রূপ।
হ্যাঁ, ধোঁয়া কোনো ওষুধ নয়, এ এক অভ্যাস,
তবু তার মাঝে সজীব কত নরম আশ্বাস।
কে বলবে— তুমি ক্ষতিকর ?দেবে শুধু দোষ?
সে তো কারো কান্নার ক্ষণিক বরষ।
সে কি শুধুই কর্কটের ছায়া?
নাকি কোনো হারিয়ে যাওয়া বাঁচার খেয়া?
যেমন কেউ গরল পানে চিঠি লেখে—
ঠিক তেমনি ধোঁয়ার মাঝেও জীবন কখনো পথ দেখে।
সিগারেট জ্বলে —
যেন প্রিয়জনের চুলে আগুন ধরা সলতে,
আর তবুও মানুষ বাঁচে তাতে —
ভাঙা হৃদয়ের বিনত বেণীর জরিন ফিতাতে।
হ্যা বিজ্ঞান বলে "ও মৃত্যু",
কিন্তু কবি বলে— “সে এক নীরব প্রেমের বন্ধু।”
বুঝে না শরীর ধোঁয়া , বোঝে মনের সেতু কল্যান—
এ এক শোকের শিকার হওয়া প্রেমিকের ছোট্ট জয়গান।
তাহলে বলো...
নিকোটিন কি শুধুই ভুল?
নাকি বিষের পাঁকে ফুটে ওঠা
একটা লাল শালুক ফুল?
০৫-০৬-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।