নস্টালজিয়া
- BIDYUT BARAN BARIK ( বিদ্যুৎ বরণ বারিক)

এক ছিলাম সময়ের ফাটলে আটকে যাওয়া ছায়া,
না ছিল রোদ, না ছিল ধুলো, না ছিল মাঠের মায়া।
শৈশবটা ছিল এক কুয়াশা-ভরা ঘর,
যেখানে হাসি মানে শুধুই কাগজের জ্বর।

জানালায় বসে দেখেছি পাখিদের দল,
কিন্তু ডানার ভাষা বুঝিনি, ছিলাম একা, নিঃশব্দ জল। পাঁকাল মাছের মতো কাদার নিচে,
আমার শৈশবটা কেবল বইয়ের পাতায় গিয়েছিল মিছে।

তারপর হঠাৎ—একটা বর্ণহীন দিন,
ছুটে এল এক ছেলে, যেন ভাঙা ঘড়ির নতুন কাঁটায় টান-দেওয়া টিন।
ও ছিল না আমার কেউ,
তবু ওর হাত ধরেই এল শৈশবের ঢেউ।

ওর ছোট ছোট পায়ে হাঁটা আমি শিখিয়েছি,
কোলে করে চাঁদ দেখিয়েছি, পিঠে করে ঘোরানো মেঘ,
ওর ছায়ায় জেগেছিল আমার শৈশবের রংহীন আবেগ।

ওর খিলখিল হাসি, কাদামাটির খেলা,
অসমাপ্ত শৈশব যেন পেলো ঘুড়ির মেলা।
একসাথে পড়েছি, গল্পে গড়েছি দিন,
জীবনের বোবা পাতায়, জোনাকিও বেরঙিন।

কিন্তু সময়, সে তো চিরকাল ছিনতাইকারি,
এক ঝড়ে ওকে নিয়ে গেল, ভাঙল মনোজন্মের গাড়ি। এখনও দেখি—দূর থেকে, চোখে জল,
কেমন করে পেছনে ফেলে এলাম সেই রৌদ্র-ভরা ছল!

দৌঁড়ে ইচ্ছে করে—জড়িয়ে ধরি,
আমার না-পাওয়া শৈশবটা আজও ওর চোখেই গড়ি।
কিন্তু ভয় — সমাজের তর্জনী,
ভয় — সমালোচনার বিষধর বাণী।

তাই চুপ করে থাকি, দাঁড়াই দূরে,
একজন হেরে যাওয়া শিশু, স্মৃতির নুপুরে।
তার চোখেও দেখেছি অশ্রু - নীরব বিকেলবেলা ,
হৃদয়মাঝে কল্পতরু - সূর্য ডোবার পালা।
আমার নস্টালজিয়া—ওর হাতের আঙুলে বাঁধা,
একটা হারানো শৈশব, যা আজও বুকের কাঁদা।


০৭-০৬-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।