কাগজের বিমান
- ফারহান নূর শান্ত

তখনও ছুটির ঘণ্টা বাজেনি,
খাতা ভাঁজ করা হয়নি।
হয়নি বই ব্যাগ গোছানো—
বাচ্চারা বসে,ছুটির ঘণ্টার অপেক্ষায়।

নূরী তার পাশের বন্ধুর থেকে
ইরেজার নিয়ে,
পেন্সিলের দাগটা মোছায় ব্যস্ত।
টিচার বোর্ডে একটা বড় প্লেন আঁকছেন।

একটা ছেলে খাতার পাতা ছিঁড়ে
কাগজের প্লেন বানায়—
ছোট্ট একটা হাসির ভেতরে ঢুকে পড়ে শিশুবেলায়।

হঠাৎ—
সে প্লেনটা উড়ে যায়।
উড়ে গিয়ে আঘাত হানে
পুরো স্কুলের বুক জুড়ে।

শব্দটা ছিলো না বাচ্চাদের বানানো প্লেনের।

ছিলো আকাশ থেকে আসা,
লোহার ভয়ংকর শরীরের দানবীয় আওয়াজ।

একটা যুদ্ধবিমান নেমে এসেছিলো—
বোর্ডের ছবির মতো নয়,
বুক চিরে ফেলা এক নরক হয়ে।

মুহূর্তেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলো গোটা স্কুল।

জানলার গ্লাসে আঁকা ছিলো রঙধনু—
এখন সেখানে ছাই।

এরপর আর কিচ্ছু ছিলো না—
শুধু ধোঁয়া, আর্তনাদ, ছুটে যাওয়া পায়ের শব্দ।

আধপোড়া শরীর নিয়ে ছুটছে কেউ কেউ।
আগুন চেনেনি কোনটা কোমল শিশুর শরীর!
যদি চিনতো, হয়তো এতটা তীব্র বিস্ফোরণ হতো না।

আধপোড়া দেহ নিয়ে ছুটে চলা শিশু,
বড্ড আশা করেছিলো, তাদের দিকে এগিয়ে আসবে হাত।

এলো না!
বিকৃত মস্তিষ্কের বিবেকহীন জানোয়ার গুলো —
ভিডিও ধারণের নেশায় মত্ত।

যে ভিডিওর আয় দিয়ে ব্যাগভর্তি করে বাজার কিনে নেবে
নিজের সন্তানের জন্য।
অন্যর সন্তানের রক্ত মাখা শরীর যেন —
ব্যাগভর্তি করে বাড়ি যাচ্ছে তারা।
লজ্জা লজ্জা!

দেহ গলে পড়ে আছে বদ্ধ ক্লাসরুমে।
রক্তের সাথে মিশে গেছে চোখ,হাত,মস্তিষ্ক।
যে কপালে চুমু খেত রোজ বাবা-মা
সে পোড়া কপাল, পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

চুলের ঝুটি করা রঙিন ফিতা,
আইডি কার্ড,টিফিন বক্স,রঙ পেন্সিল —
কিচ্ছু নেই।

ছুটির পর বাড়িতে ফিরে বাবাকে
খাইয়ে দেওয়ার কথা ছিলো কারোর।

বাবার আর খিদে পায় না!
চোখ থেকে ঝরেনা জল।

কত কোমলপ্রাণ শিশুর,
খাতায় আঁকা স্বপ্ন পুড়ে গেছে,
ইরেজার গলে গেছে
পেন্সিলের দাগ মোছা হয়নি।

ওরা ছুটি নিয়ে নিয়েছে,
ঘণ্টা বাজেনি।
ওদের ছুটি হয়ে গেছে।

ওরা এমন এক জায়গায় চলে গেছে,
যেখানে যুদ্ধবিমান,
স্কুলের ওপরে দিয়ে আর যেতে পারবে না।


২৩-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।