কমলাপুরের দেখা (ব্যতিক্রম)
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
কমলাপুরের দেখা
কমলাপুরের ভিড়ভাট্টার অশান্ত প্রাঙ্গণে,
হঠাৎ তোমায় দেখলাম—
যেন মরুভূমির বুকে হঠাৎ ঝরে পড়া বৃষ্টি।
শাড়ির আঁচলে বৌভাতের রঙ,
কপালে সিঁদুরের আলো,
চোখে জমে থাকা অভিমানী নীরবতা।
পাশে সরকারি চাকুরে স্বামী—
দূর থেকে চেয়ে মনে মনে বললাম,
“সৌভাগ্যবান সে পুরুষ,
যে তোমার মতো রত্নকে বুকে বেঁধে সুখের মালা গেঁথেছে।”
আমার বুক তখন দাউদাউ আগুন,
অতৃপ্ত পিপাসার মতো আকাঙ্ক্ষা—
কাছে গিয়ে তোমার ঠোঁটের কোণে জমে থাকা
অগণিত প্রশ্ন ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু নিয়তি অদৃশ্য শেকলে টেনে ধরল,
ট্রেনের হুইসেল এসে গিলে নিলো
আমাদের অনুচ্চারিত সব কথা।
তুমি চোখে ঝরে দিলে অভিমান,
যেন বজ্র মেঘের আড়ালে বন্দি বিদ্যুতের ঝলক।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম নির্বাক,
যেন প্রতিমা,
আর ট্রেন ছুটে নিলো আমাকে যশোরের পথে।
তারপর থেকে জীবন আমাদের আলাদা নদী,
কোনো মোড়ে আর মেলেনি স্রোত।
তবুও পাহাড়সম শ্রদ্ধা,
সমুদ্রসম ভালোবাসা
আজও আমার ভেতরে শিকড় গেড়ে আছে শুধু তোমার নামে।
সেই কমলাপুরের দেখা
হয়তো ছিল আমাদের শেষ গান,
কিন্তু সেই সুর এখনো বুকের গহ্বরে বাজে—
অদৃশ্য বাঁশির দীর্ঘ সুরের মতো,
যা রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে
প্রতিটি শ্বাসে ঝরে পড়ে।
তোমার অভিমানী চোখের দৃষ্টি
আমার চেতনায় খোদাই হয়ে আছে,
যেন শিলালিপির অক্ষর—
যা কোনো কালও মুছে ফেলতে পারবে না।
তুমি সুখে থেকেও আমার না-পাওয়া,
তবুও তোমার নামেই জ্বলে আমার অন্তর।
কামনা, আবেগ, অনুশোচনা—
সব মিলেমিশে আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
সেই কমলাপুরের দেখা তাই—
শুধু একটি স্মৃতি নয়,
অভিমান-আবেগের অমৃত-বিষ মিশানো প্রতীক,
যা আমাকে প্রতিটি ভোরে জাগায়,
প্রতিটি রাত্রে নিঃশব্দে কাঁদায়।
০৯-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।