শেষ ঠিকানা
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

জীবনের পথ যতই দীর্ঘ হোক,
শেষে এসে মিশে যায় নীরবতার স্রোতে।
হাসি-কান্নার সবকটি পর্ব
নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে পড়ে মাটির কোলে।

সোনার স্বপ্ন, অভিমান, আকাঙ্ক্ষা,
সব ফুরিয়ে যায় এক মুঠো ধুলোয়।
শরীরের প্রদীপ নিভে গেলে
আত্মা খুঁজে নেয় অনন্তের আলোয়।


---

জীবনের নৌকা যতই ভাসুক ঢেউয়ের দোলায়,
শেষে ভিড়তে হয় শূন্যতার ঘাটে।
হাসি-কান্না, আশা-অভিমান,
সব মিশে যায় সময়ের ধূলোয়।

রূপ-যৌবনের আলোক-প্রদীপ
একদিন নিভে যায় নিঃশব্দে,
অভিলাষের বাগান শুকিয়ে পড়ে
শ্মশানের শীতল ছায়ায়।

সোনালি স্বপ্ন, নীল কল্পনা
ধুলো মেখে শুয়ে থাকে কফিনের কোলে।
আত্মা পাড়ি জমায় অনন্ত আকাশে—
যেখানে নেই মায়ার বন্ধন,
নেই কোনো দুঃখের ঋণ।

সেই তো আমাদের অবধারিত যাত্রা,
অশেষ নীরবতার আবাস,
মাটির বুকের চিরকালীন আশ্রয়—
শেষ ঠিকানা।


---

জীবন—এক অনন্ত যাত্রাপথ,
হাজার রঙের উত্সব,
স্বপ্নের বাজার,
অভিমান ও আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন মেলা।
তবু প্রতিটি পদক্ষেপ গোপনে
পাড়ি জমায় এক নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে—
অপরিবর্তনীয়, অবধারিত,
চূড়ান্ত এক মাইলফলক— শেষ ঠিকানা।

রাজপ্রাসাদে হোক, কিংবা কুঁড়েঘরে,
কেউ বাঁচতে পারে না মাটির আহ্বান এড়িয়ে।
মুকুট, সিংহাসন, ধনরত্ন—
সবই থেমে যায় কফিনের আঁধারে।
কবি, রাজা, দরিদ্র কৃষক—
সবাই সমান হয় শ্মশান শীতলে,
যেন এক মহা নাটকের শেষে
নেমে আসে চূড়ান্ত পর্দা।

এ দেহ—ধূলির পুতুল,
সময় নামের কারিগর
ধীরে ধীরে ক্ষয়ে ফেলে তাকে।
শেষে শুধু নিঃশব্দ অশ্রু,
শোকের স্নিগ্ধ ছায়া,
আর কবরফলকের ভাষাহীন স্তব্ধতা।

তবু মৃত্যু কোনো অন্ত নয়—
এ এক রূপান্তরের সেতু,
আত্মার নৌকা ভেসে যায়
অজানার মহাসমুদ্রে।
যেখানে নেই দিন-রাতের বিভাজন,
নেই দুঃখ-ক্লান্তির হিসাব,
শুধুই অনন্তের শান্ত ধ্রুবতারা।

হে মানুষ, মনে রেখো—
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত
সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী খেলা,
শুধু সেই নীরব শয্যা,
শুধু সেই ধূলো-আলিঙ্গন
আমাদের প্রকৃত,
চিরকালীন আশ্রয়—
শেষ ঠিকানা। ????


১০-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।