তীর্থের কাক
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
তীর্থের ধূসর প্রান্তে কাকটি একা বসে,
ডানার ছায়ায় ম্লান নিঃসঙ্গতার ধোঁয়া ছড়িয়ে।
প্রেমের আগুন নিভে গেছে, কামনার রঙ ফিকে,
চোখে ঝলমল করে শুধু একাকীত্বের অমল আলো।
মানুষ আসে, আনে শব্দ, আনে হাসির ঢেউ,
কিন্তু কাক শুনে শুধু অন্তরের নীরব সুর।
আধাত্মিকতার বাতাসে দুলে তার নির্জন ডানাপ্রান্ত,
প্রত্যেক নিঃশ্বাসে মিলিয়ে যায় কষ্ট আর আশার রেখা।
চিন্তায় লুকানো লোভ, অহঙ্কার, তৃষ্ণা ও আশা,
সব মিলেমিশে গড়ে তোলে নিঃসঙ্গ বুকে নীরব প্রহর।
ভালোবাসা, অভিমান, লালসা, কামনা—
সবই বুনে দেয় অন্তহীন নীরব মন্ত্র,
যা কেবল সে বোঝে, যা কেবল সে শোনে।
তীর্থের কাক জানে—মানুষ আসে, মানুষ যায়,
কিন্তু নিঃসঙ্গতা চিরন্তন,
অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে রাখে হৃদয়ের অন্তরাল।
একা থাকা যেন আরাধনার মতো,
নিজের তীর্থে খুঁজে পাওয়া চিরস্থায়ী শান্তি,
নিজের অন্তরে প্রাপ্ত চিরন্তন মুক্তি।
১১-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।