শ্রেনীকক্ষের নিঃশ্বাস
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

আকাশ কেঁপে উঠল, বজ্রের মতো গর্জনে,
উত্তরা মাইস্টান স্কুলের আঙিনায় ছিটকে পড়ল মৃত্যুর ছায়া।
প্রশিক্ষণ বিমানের লোহার খণ্ডে আগুন নেচে,
মুহূর্তে শিশুরা হারালো স্বপ্ন, হাসি আর আশা।

বই-খাতা ছড়ানো, খেলার মাঠে পড়ে থাকা ব্যাগ,
হাসির স্থান আজ রক্তে ভিজে শোকের ছায়া।
মায়ের ডাক, বোনের আর্তনাদ,
শিশুদের নীরব সুরে মিশে গেল করুণ আগুনের ফাঁদ।

মাহেরিন ম্যাডাম—শিক্ষিকার বীরত্বের প্রতীক,
আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, বাঁচাতে ছোট্ট প্রাণ।
নিজেকে দগ্ধ করেও বের করলেন বিশ শিশুকে,
শেষ মুহূর্তে জীবন দিলেন মানবতার পূর্ণ দীপ।

মাহফুজা খাতুনও দিলেন আত্মত্যাগের প্রমাণ,
চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন চিরকালীন নিঃশ্বাসে।
শহর স্তব্ধ, জাতি শোকমগ্ন,
প্রত্যেক দেয়াল আজ কাঁদছে, আকাশও বেদনায় ভরা।

রক্তে ভেজা মাঠ, ছড়িয়ে থাকা বইয়ের পাতা,
আজ তাদের স্বপ্নের স্মৃতি হয়ে আছে চিরন্তন বাতাসে।
মহৎ আত্মারা আমাদের শিখিয়ে গেলেন,
মানবতা, সাহস, ও ভালোবাসা—জীবনের চেয়েও বড়।

হে আকাশ, কেন এত নির্মম খেলো?
শিশুরা কি পাপ করেছিল এ পৃথিবীতে হাসার জন্য?
তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, অশ্রু নদী বয়ে চলে,
উত্তরা মাইস্টানের দেয়ালও কাঁদছে নিরবতায়।


১৩-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।