শ্মশান পূজারী
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
শ্মশানের আঁধারে নেমে আসে রাত,
অগ্নিশিখার আলোয় দুলে ওঠে মৃত্যুর জগত।
বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ছাইয়ের গন্ধ,
চিতা-শিখায় জেগে ওঠে অচেনা বন্দনাগীত।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে পূজারী—
না মানুষ, না দেবতা, না দানবের ছায়া,
সে অদৃশ্য সাধক, অলৌকিক প্রহরী,
মৃত্যুর আঁধারে যার চোখে জ্বলে অনন্তের মায়া।
তার কপালে মেখে থাকে ছাই,
গলায় অস্থিমালা ঝুলে অদ্ভুত দীপ্তি,
কণ্ঠে কোনো মন্ত্র নেই, নেই শঙ্খের ধ্বনি,
শুধু নিস্তব্ধতায় বাজে শূন্যতার বীণাধ্বনি।
প্রেতাত্মারা আসে নিশির গভীর ঘোরে,
চিতা-ধোঁয়ার ভেতর ফিসফিস করে অদৃশ্য স্বরে।
পূজারী শুনে সব, বোঝে সব—
কার আত্মা কোথায় যাবে, কার পথ কেমন কঠিন।
মানুষ ভাবে—মৃত্যুতেই সব শেষ,
কিন্তু তার চোখে মৃত্যু কেবলই দ্বার,
যেখান থেকে শুরু হয় অচেনা অনন্ত,
যেখানে ছাইয়ের বুক থেকে জন্ম নেয় আলোর ঝরনা।
সে ভৌতিক, সে রহস্যময়,
অগ্নিশিখার ছায়ায় তার প্রতিচ্ছবি দীর্ঘতর,
বাতাসে বাজে ভয়ের বাঁশি,
তবুও তার নীরবতা গভীর, অটল, অবিচল।
শ্মশান পূজারী প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে চিরকাল,
জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানে শাশ্বত সত্যের প্রতীক হয়ে।
অহংকার, প্রেম, অভিমান, হাসি, কান্না—
সবই মিশে যায় চিতার ধোঁয়ায়,
কেবল থেকে যায় তার কঠিন দৃষ্টি,
যেখানে লেখা আছে একমাত্র সত্য—
“জীবন ক্ষণিক, মৃত্যু চিরন্তন।”
এভাবেই শ্মশান পূজারী,
অগ্নির প্রহরী, ছাইয়ের সাধক, মৃত্যুর যাজক,
শত সহস্র প্রাণের বিদায়ের সাক্ষী হয়ে,
চিরন্তন আঁধারে দাঁড়িয়ে থাকে—
ভয়েরও ওপরে, সময়েরও ওপরে,
এক অনন্ত পূজারী হয়ে।
সেখানে সব অহম শেষ
শুধু দেহের ভস্ম!
১৩-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।