চলনহারা বসন্ত
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

চার বসন্ত কেটে গেল, নিঃশব্দ নদীর মতো,
আজও কি তুমি উপলব্ধি করো না—
প্রেমের সেই অমল আলো,
যা মোর অন্তর ভেদ করে যায় বারংবার।

পেয়ারী তুমি, নিত্য সুখের জলে ডুবে,
আমি ডুবে আছি অশ্রুজলে, নিঃশব্দের তীরে।
হে হৃদয়েশ্বরী, এ কেমন প্রলাপের খেলা,
যা খেপাটে করে মোরে, তবু অচেনা।

নব বৈশাখের হাওয়া আসে, দিক বদলায়,
তবুও পাইনি তোমারি মিলন, না দেখা, না স্পর্শ।
ফুলের গন্ধে, পাখির গানেতে, নিশীথের নীরবতায়
খুঁজে ফিরি তোমার ছায়া—অদৃশ্য, অপার।

হায়, চার বসন্ত কেটে গেল—
পাতার মতো পড়ে যায় দিন, রাত, আশা।
তবু অন্তর দিয়ে বলি, ফিরে এসো প্রিয়া,
আমার শীতল হৃদয়কে আলো দিয়ে গরম করতে।

আকাশের তারা, মেঘের ছায়া, শিউলি ফুলের গন্ধ—
সব কিছুর মাঝে তুমি,
হৃদয়ের মন্দিরে বসবাস করো চিরকাল।
আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার দরজায়,
প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার নাম গাই,
প্রেমের নিঃশেষ যাত্রা অব্যাহত।

বসন্ত যাবে, হাওয়া বদলাবে,
কিন্তু তোমার উপস্থিতির খোঁজে
আমার অন্তহীন অপেক্ষা থামবে না।
যেন একদিন তুমি ফিরে আসো,
আমার নিঃশ্বাস, আমার হৃদয়,
সব কিছু ভরে যাবে তোমার আলোতে।

নীরবতার মাঝেও বাজে তোমার গান,
প্রতি ছন্দে, প্রতি স্বরে—
যেন প্রেমের চিরন্তন সুর,
যা আমাকে ডেকে নেয় তোমার কোলে।

হে প্রিয়া, তুমি দূরের দীপ,
আমি মোমবাতির আলো হয়ে জ্বলি,
শুধু তোমার জন্য—শুধু তোমার জন্য।
চিরন্তন বসন্তের মাঝে,
আমার হৃদয় অপেক্ষায় থাকে,
তোমার স্পর্শে আবার জীবন পেতে।


১৫-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।