নদীর তীর নিঃশব্দ আজ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

দৃশ্য ১: মিলনের সকাল
প্রাচী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,
নদীর পানি ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে।
হাওয়ায় যেন অর্নবের গন্ধ ভেসে আসে।
চোখে অশ্রু, হৃদয়ে অজানা উচ্ছ্বাস।

প্রাচী:
অর্নব, তুমি সত্যিই এখানে আছো?
আমাদের মিলন কি স্বপ্ন, নাকি সত্যি?

অর্নব:
হ্যাঁ, প্রিয়, আমি আছি।
আমি চাই তোমার হাত আমার হাতে হোক,
তোমার দৃষ্টিতে আমার অস্তিত্ব খুঁজে পাই।
কিন্তু ভয়, অহং—সব কিছু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।


---

দৃশ্য ২: মিলনের আনন্দ
হাওয়া মৃদু, সূর্য ঢেউয়ের মতো ছায়া ফেলছে।
তারা হাত ধরে নদীর ধারে হাঁটছে।

প্রাচী:
অর্নব, এই মুহূর্তে সব কিছু ঠিক আছে, তাই না?
আমাদের প্রেম যেন নদীর মতো গভীর,
তোমার স্পর্শের মতো ঘন।

অর্নব:
হ্যাঁ, প্রিয়।
এই মিলন, এই নীরবতা,
সব কিছু আমার হৃদয়ে খোদাই হয়ে গেছে।
আমি চাই আমাদের ভালোবাসা চিরন্তন হোক।


---

দৃশ্য ৩: মিলনের গভীরতা
রাত্রি নেমেছে, তারা একে অপরের চোখে চোখ রাখছে।
নিঃশব্দে সব কথাই বলা হয়েছে।

প্রাচী:
আমি চাই সব অভিমান, সব কামনা, সব ভালোবাসা
আমাদের নীরবতায় ভেসে উঠুক।

অর্নব:
আমার ভয়, আমার অহং, সব মিলিত হোক।
আমাদের হৃদয় এখন এক,
আমাদের নিঃশব্দ মিলন চিরকাল স্থায়ী।


---

দৃশ্য ৪: প্রথম দূরত্ব
কিছু দিন পর, জীবনের বাধা এসে দাঁড়ায়।
অর্নব দূরে, কাজের বা অন্য কারণ—প্রাচী একা।

প্রাচী:
তুমি কেন দূরে চলে যাও, অর্নব?
আমি চাই তোমার কাছে, কিন্তু তুমি নেই।

অর্নব:
প্রিয়, আমি চাই থাকি তোমার কাছে,
কিন্তু বাস্তবতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আমি তোমার ভালোবাসা অনুভব করি,
তবু কাছে আসতে পারি না।


---

দৃশ্য ৫: অভিমান ও নীরবতা
প্রাচী একা বসে আছে নদীর ধারে,
অশ্রু চোখে, অন্তর কাঁদছে।

প্রাচী:
আমার অন্তর চায় তোমার কাছে,
কিন্তু তোমার নীরবতা কষ্ট দেয়।
আমাদের ভালোবাসা কি শুধুই নিঃশব্দ?

অর্নব:
না, প্রিয়, ভালোবাসা নিঃশব্দ হলেও সত্য।
আমি চাই, সব অভিমান, সব কামনা
আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকুক।


---

দৃশ্য ৬: বিদায়ের আগমণ
এক সন্ধ্যা, অর্নব চিঠি দিয়ে যায়।
চিঠিতে লেখা: “প্রিয় প্রাচী, আমাদের পথ আলাদা।
ভালোবাসা অমলিন, কিন্তু বাস্তবতা বাধা।”

প্রাচী:
এই বিদায় কষ্টের,
কিন্তু ভালোবাসা চিরন্তন।
আমি নিঃশব্দে চিৎকার করি,
কিন্তু কেউ শোনে না।


---

দৃশ্য ৭: চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
নদীর তীরে তারা একে অপরকে শেষবারের জন্য দেখে।
নীরবতা, অভিমান, কামনা—সব মিশে গেছে বাতাসে।

অর্নব:
প্রিয়, আমাদের ভালোবাসা ভুলবে না।
আমরা আলাদা, কিন্তু হৃদয় চিরকাল একে অপরের সঙ্গে।

প্রাচী:
হ্যাঁ, অর্নব।
তুমি চলে গেলে, নদীর জল আমার চোখে ঝরে,
কিন্তু তোমার স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।


---

দৃশ্য ৮: নিঃশব্দ সমাপ্তি
প্রাচী একা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে।
অর্নব দূরে মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়।
মিলন হয়েছে, বিচ্ছেদ হয়েছে—
তবু ভালোবাসা অদৃশ্য, অমলিন।
নদীর ঢেউ, বাতাস, চাঁদ—সব তাদের গল্প বলে।


---


১৬-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।