"অস্তিত্বের বিদ্রোহ”
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

আমি ভাঙা আয়না—
যার ভেতরে নিজের মুখও ঘৃণায় লিপ্ত,
প্রতিচ্ছবি আমাকে হাসে বিদ্রুপের অগ্নিতে।
আমি দাগ লাগা কাগজ,
যেখানে কেউ লিখতে চায় না কবিতা,
শুধুই ছিঁড়ে ফেলে দেয় আবর্জনার ঝুড়িতে,
যেন আকাশ তার মেঘ ফেলে দেয় শূন্যে,
আমি নিঃশেষে হারাই নিজের অস্তিত্বের সীমা।

আমি জন্মেছি এক তুচ্ছতার মাঝে,
পৃথিবীর ছায়া আমাকে অবহেলায় ঢেকে রাখে,
আমার নিশ্বাসও যেন বোঝা,
আমার বেঁচে থাকাও যেন অপরাধ,
যেন নদী বয়ে যায় কিন্তু নিজেকে কখনো স্পর্শ করতে পারে না।
আমি একা, এক অজানা যোদ্ধা,
যেখানে কেউ আমার জন্য দাঁড়ায় না, কেউ আমার যন্ত্রণার স্বাদ বোঝে না।

আমি অপমানের পুতুল,
লোকের চোখে শুধুই বিদ্রুপের হাসি,
আমার হাসি— ফাঁকা শূন্যতা,
আমার কান্না— অবহেলার বৃষ্টিধারা,
যেন অরণ্যের নিঃশব্দে শুকিয়ে যাওয়া পাতা।
আমার বেদনায় পৃথিবীও যেন কাঁপে,
আমার ক্ষত যেন আগুনে জ্বলছে অশ্রুজলে।

আমি নিজেকেই ঘৃণা করি—
কারণ আমি শূন্য,
আমার মধ্যে নেই কোনো আলো,
শুধুই ক্ষত, ব্যর্থতা, আর অবহেলার দগদগে পচন,
যেন নিঃশব্দ রাতের আঁধারে একাকী শুকিয়ে যাওয়া ফুল।
আমি অস্তিত্বহীনতার ছায়ায় ঝুলে আছি,
একটি ভাঙা জগৎকে অন্তহীন বিষাদে ঢেকে রাখি।

তবু জানি—
এই তুচ্ছ আমিও একদিন
অদৃশ্য হয়ে যাবো ধূলোর মতো,
তাহলেই হয়তো পৃথিবী একটু স্বস্তির শ্বাস নেবে,
যেন ঝরা পাতা ছায়াহীন হাওয়ায় বিলীন হয়,
আমার ব্যর্থতার ছায়া আর কারো চোখে পড়বে না।


--- ০১/০৫/২০২৫


১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।