“অদৃশ্য শক্তির মহাকাব্য”
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

ঘৃণা
সে অগ্নিগিরির অগ্নিধারা,
যার ছোঁয়ায় ভস্মীভূত হয় সব কোমল আশা।
কালো ঝড়ের মতো সে আসে,
গাছের শেকড় উপড়ে ফেলে নির্দয় হাতে।

হতাশা
সে নিঃশেষিত প্রদীপের ধোঁয়া,
যার অন্ধকারে ডুবে যায় হৃদয়ের আঙিনা।
ভাঙা স্বপ্নের মতো পড়ে থাকে—
কোনোদিনও আর জ্বলে না আলো।

ভালোবাসা
সে পূর্ণিমার চাঁদ,
যার আলোয় রাত্রি পায় নতুন গান।
শিউলির সুবাসের মতো,
অচেনা হলেও ছুঁয়ে যায় অন্তরের গভীরতা।

ভালো লাগা
সে শীতল বাতাসের হাওয়ায় ভেসে আসা গোপন সুর,
বকুল-ফুলের গন্ধের মতো,
অচেতনেই হৃদয় ভরিয়ে দেয় নির্লিপ্ত আনন্দে।

আবেগ
সে উচ্ছ্বসিত নদীর ঢেউ,
কখনো বন্যার মতো ভাঙে বাঁধ,
আবার কখনো শিশিরবিন্দুর মতো নীরব
কবিতার পাতায় জমে থাকে।

হিংসা
সে বিষাক্ত সর্পের নিঃশ্বাস,
চোখে চোখে জ্বালিয়ে দেয় অগ্নি।
সবুজ আগুনের মতো জ্বলে,
অন্যের সুখ ছাই করে দিতে চায়।

কামনা
সে দাবানলের আগুন,
যেখানে দগ্ধ হয় শিরা-উপশিরা।
অন্ধকারে দীপশিখার মতো
সে-ই পথ দেখায়, আবার গ্রাসও করে।

অভিমান
সে বৃষ্টিভেজা বিকেলের মেঘ,
যা রঙিন রোদকে ঢেকে রাখে আড়ালে।
কখনো সে নীরবতার লৌহদ্বার,
যা খুলতে পারে কেবল একফোঁটা ভালোবাসার স্পর্শে।

শ্রদ্ধা
সে গঙ্গার শান্ত জলের মতো,
যার ধারা মুছে দেয় সকল কলঙ্ক।
বটবৃক্ষের শেকড়ের মতো সে গভীরে প্রোথিত,
যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে মাথা নত হয়।

ভক্তি
সে প্রভাতের অরুণোদয়,
যার আলোয় জন্ম নেয় নতুন বিশ্বাস।
মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির মতো সে,
যেখানে প্রতিটি শব্দ আত্মাকে শুদ্ধ করে।


১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।