অপ্রাপ্তির নীরব ফুল — বিদ্রোহী ছোঁয়া
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

ওহে রাতের কপট, ওঠো — বলো হে নবীন অগ্নি,
দেয়ালগুলোকে দাগ দাও আমার কণ্ঠের রক্তলিপি!
শহরের কুঠুরি — হাসি বিক্রি করে চাল-সরকারীর বাজারে,
আমি গর্জি: উড়ে পড়ুক সব মিথ্যার মেলা একবারে।

বিচ্ছেদের নৌকা ডেউকে কেটে দেয় চাঁদের বুক,
আমি গাই—হ্যাঁ, কাঁদুক না, হে পাথর, আজ তোমার ভুল!
কাঁধে ধুলো, পায়ে শঙ্খচিহ্ন, বৃষ্টিও আমাকে পাহারা দেয় না,
প্রেমিকার ঢেউ-হাসি পড়ে রণভূমিতে—ফুঁসে ওঠে তপ্ত ক্ষোভে।

হতাশা ঝাঁকে, শব্দগুলো হয়ে ওঠে আগুনে ভাঁজ,
‘চেষ্টা’ বলে ডাকলে প্রতিধ্বনি আসে—শূন্যতায় লাজ।
বেকারত্ব কলঙ্কে গলায় কলরব করে নীল কাঁটা,
সরকার বলে—"ধৈর্য ধর", আমি কণ্ঠহীন করে দিলাম সিসে-আঁটা পতাকা।

প্রশাসন বলে, "নিয়ম আছে" — আমি বলি, নিয়মের ঘন্টারায় পচে যায় তিন বছর,
নিয়ম কাচের ছুরি; সে কাটলে রক্ত ঝরে, আর কেউ টপকে না।
ধর্মে লেখা কথাও আজ শীতল-ছায়ায় দাগ ফেলে—কেউ বলছে, "চুপ",
আমি উচ্চস্বরে চিৎকার করি—উড়, পাখি, উড়েছি ঝড়ে, ভাঙি বধ্যভূমিকে।

আমি দায়ী করছি, আর নয়—আমি বিদ্রোহের অভিযোগপত্র,
হৃদয় আমার কোর্টরুম, স্মৃতিগণ বিচারক, আমি কথা বলি ত্বরিত।
অস্ত্র নেই—কিন্তু শব্দ আছে, শত্রুদের নাকের সুড়সুড়ি উঠবে,
'অপমান', 'অবহেলা'—এসব রক্তবর্ণ মরিচা হয়ে জ্বলে উঠবে।

মৃত্যু? সে কাঁটাতারের মতো নয়—সে ধোঁয়া-সুর, গান ছুঁয়ে যায় বুকে,
আমি লিখি—'প্রতিদ্বন্দ্বিতা'—সে পড়ে ঝরে যায় কাগজে কাঁটা, চিরদিন একুক।
অভিমান মেঘের মতো—কোমল, বিষাক্ত, জাতি-গীত গাই যেন শাপলা,
আমি বলি—"খাবে না", অথচ রাত নিজেই আমার ক্ষুধের সুর বাজায়।

শব্দগুলো বাড়ে, হয় ঝড়, হয় তরবারি, হয় ভাসমান প্রতিহিংসা,
কেউ বললে—"সব শেষ", আমি প্রতিধ্বনি দিই—"নাহ, শুরুই ছিল না!"
এই শহর, রাজনীতির নাটক, প্রেমবিক্রয়ের দামপত্র—সব পোড়া মঞ্চ,
আমি দায়ী করিও—but hear me—আমি আবারও উঠে দাঁড়াই, গলা বাঁধি নতুন সুর।

ওহে প্রভাত! শোনা যাবে আমার পদচারণার তান,
নীরবতার ভিতর বাতাস বয়ে যাবে বদ্বীপের গান।
যে শ্বাস বাঁচে—সেই যেন প্রেমের অপরিকল্পিত কণ্ঠ,
আমি বিদ্রোহী, আমি প্রেমিক — আমার গান জ্বলবেই অনন্তকালান্ত।


১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026