বিদ্রোহীর নিশ্বাস
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
আমি দায়ী করি—হে দেয়াল, হে শহর,
যেখানে হাসি বিক্রি হয় রুপার থলে ভরে।
রাজনীতির মেলা, ভণ্ড প্রতিশ্রুতি,
কখনো দেয়নি ভাত, কেবল দিয়েছে লুটের গীতি!
আমি দায়ী করি—ওহে বিচ্ছেদ,
তুমি রেখে গেলে চাঁদের মতো ফাঁকা ঘর,
শহরের ধুলোয় শ্বাস রুদ্ধ,
প্রেমিকার হাসি ভেঙে পড়ে ধ্বংসস্তূপে, ভস্মস্তূপে পরপর।
হতাশার স্রোত—শব্দে মিথ্যা ভাসে,
চেষ্টা বলে ডাকি—উত্তর আসে না কারো কাছে!
বেকারত্ব কাঁটা হয়ে বুকে বিঁধে,
সরকার বলে—"ধৈর্য ধরো!"—আমি বলি—"আগুন ধরো রক্তমাখা মাটিতে!"
প্রশাসন গোঁফে হাত বুলায়—"নিয়ম আছে!"
আমি গর্জি—"নিয়ম ভাঙো, শৃঙ্খল ছিঁড়ো, আলো জ্বালো!"
ধর্মীয় অনুশাসন—বলে, "চুপ থেকো",
আমি চেঁচাই—"চুপ নয়, তলোয়ার হও, বিদ্রোহী ঝড় হও!"
আমি দায়ী করি—কিন্তু ভয় করি না!
আমার হৃদয় আদালত, স্মৃতিই সাক্ষী,
অস্ত্র আমার শব্দ—'অপমান', 'অবহেলা', 'অভিমান',
সবই লাল পাখি—ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর বুকে তীক্ষ্ণ ঝড়ের মতো।
মৃত্যু? না! মৃত্যু কাঁটাতার নয়—
সে ধোঁয়া-লেখা গান, বিদ্রোহের সুর, অগ্নির সেতার।
আমি লিখি 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা'—কালো কালিতে,
সে হয়ে ওঠে মশাল—পুড়িয়ে দেয় অন্ধকার রাতকে।
কেউ যদি বলে—"সব শেষ",
আমি বাজাই ঝড়ের বাঁশি—"না! সব শুরু এখানেই!"
রাজনীতি, সমাজ, প্রেমের ভণ্ড নাটক—
এসব ভেঙে গুঁড়িয়ে আমি দাঁড়াই—বিদ্রোহী, প্রেমিক, অগ্নিস্রোত আমি!
ওহে প্রভাত! শোনো আমার পদধ্বনি—
শৃঙ্খল ভাঙার গান বাজে বুকের ভিতর,
নীরবতার মাটি কেঁপে উঠে,
আমার নিশ্বাসে জন্ম নেয়—অপরাজেয় প্রেমের কণ্ঠস্বর।
১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।