নীরবতার রক্তবীজ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

সন্ধ্যার কোলে আমি চুপ করে বসি—হাতে নেই অভিযোগের তালিকা,
শহরটা শুধুই ঝাপসা আলো; বাজারে বিক্রি হয় মানুষের নিঃশ্বাস।
কেউ মাপছে ক্ষুধা, কেউ মাপছে নাম—সব মাপে থাকে ফাঁদ,
আমি হাতে ধরে রাখি ব্যথার এক আলোর চেরাগ, নড়ে না সে।

বন্ধ দরজার গহ্বর থেকে ওঠে পুরোনো চিঠির গন্ধ,
ভাঙা চৌকাঠে কাঁপে স্মৃতি—কাজে আসে না শান্তির ছোবল।
বিচ্ছেদ যেন একটি অচেনা পথে রেখে গেল নিস্তব্ধ একটি টিকিট,
পিছনে ফিরেও দেখিনি—পৃথিবী তখন অচেনা, আঙ্গিনায় শুধু সেকালের ধুলো।

ভোরে শবনম নামে, আর আমার রুমাল ধোয়ায় ভিজে যায়—
চেষ্টা করেও কেউ হাতে ধরে না আশা; সে দ্রব্যের দোকানে বিক্রি হয় না।
চাকরির খোঁজে আমি পা চালাই—প্রতিটি দরজায় লেগে আছে 'ফাঁক',
রাষ্ট্রের মুদ্রা কথায়ই গলাচ্ছে; কাঁধে পড়ে একেকটা দিন গলানোর চাহিদা।

কঠোর মুখগুলো বলে "শৃঙ্খলই মঙ্গল", আমি বলি—শৃঙ্খল কি মানুষের গলার নেমে?
তাদের নিয়ম লেখা কাগজে, আমাদের রক্তে লেখা রীতি—দুটি ভাষাই ভিন্ন।
ধর্মীয় শিক্ষা বলে দেবে হেঁটেছো কোথায়, আমি হেঁটেছি আমার ক্ষুধার পথে,
আকাশ শূন্য হলে পাখিও খুঁজে পায় না আড়ম্বর—আমার গলায় শুধু এক স্নেহশূন্য গান।

আমি বিস্ময় করি—নিঃশব্দের ভিতরে থাকে এক অদৃশ্য ভবানী,
রাগ না, কষ্ট না, বরং এমন এক আমন্ত্রণ যে তাকালে সে ফেটে পড়ে চিরন্তন আলো।
আমি আর ক্ষোভ করি না—আমি খুঁজি শব্দের ভাঙা পাথর থেকে নতুন তাল,
তাই কণ্ঠ ওঠে—নতুন পথে হাঁটা যাক; ঘায়েল বুকে আরেকটি নতুন সূর্য জলাও।

মৃত্যু যদি আসে, তাকে বলব—তুমি আমার না, তুমি তো শান্তির দীর্ঘশ্বাস,
আমি বাঁচাতে চাই বেঁচে থাকার ক্ষুদ্রতম অধিকার—একটি ক্ষুধামুক্ত ভোর।
অন্তত একটুকু সঙ্গ চাই—যে সঙ্গটা নামহীন, যে সঙ্গটা আলো করে দেয়,
তাই বসে আছি সন্ধ্যার কোলে—হাতের চেরাগে জ্বলছে অপ্রাপ্তির রক্তবীজ।


১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।