“অদৃশ্য দুর্দশার যাত্রা”
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
ধূলিমাখা গ্রাম্য পথে পা রাখে নিঃশব্দ পায়ে,
ক্ষুধার স্পর্শ হৃদয় কাঁপায়, অদৃশ্য ব্যথার ঢেউ বয়ে চলে অন্তরে।
প্রতিটি পদে শোনায় নীরব প্রতিধ্বনি,
জীবন কঠিন, কিন্তু থেমে যাওয়া যাবে না—
এই অদৃশ্য বার্তাটি ভেসে আসে বাতাসের সঙ্গে।
রাত আসে নীরবতার সঙ্গে,
ছাদ ভাঙা ঘরে ঢুকে পড়ে প্রতারণাময় আলো।
বাতাস কাঁপায় অদৃশ্য দুলন,
কথার গভীরে বুনে দেয় অনুভূতির কাব্যিক সুর।
ক্ষুধা, শূন্যতা, অভাব—সব মিলেমিশে তৈরি করে জীবনের নীরব ছন্দ।
অপর্যাপ্তি রূপায়িত হয় শক্তির সংকেতে,
দূরে থাকা প্রিয়জনের ব্যথা মিশে যায় অসন্তুষ্টি ও রাগের সঙ্গে।
হতাশা, দুঃখ, কষ্ট, ক্লেশ—সব মিলেমিশে ফুটিয়ে তোলে
জীবনের বহুমাত্রিক রূপ, যা চোখে ধরা যায় না কিন্তু হৃদয়ে অনুভূত হয়।
শহরের কোণে পড়ে নিঃস্বের ছায়া,
জীবনের প্রতিশ্রুতি সব হয়ে যায় ম্লান।
দুঃখের ঢেউ কাঁপিয়ে দেয় অন্তরের গভীরতা,
অশ্রুজল দিয়ে লেখা হয় অদৃশ্য ইতিহাস, যা ফিসফিস করে কানে আসে।
ধীরে ধীরে মানুষ শিখে যে, এই অন্ধকারের মধ্যেও আলো লুকানো থাকে।
গ্রামের মাঠে, শিশুদের দৌড়ে,
শ্রমিকের হালধোলায়, পথিকের নীরব পদচারণায়—
ক্ষুধা আর অভাবের নীরব কথন ফুটে ওঠে অদৃশ্য,
তবু একফালি হাসি, একফালি আশা, নতুন শক্তি দেয়।
প্রতিটি নিঃশ্বাসে স্পর্শ করে শূন্যতা,
অদৃশ্য নৃত্যে মিলেমিশে যায় ক্ষুধা, কষ্ট, অভাব।
মানুষের চোখে ঝরে ক্ষুদ্র আশা,
ধুলোয় ঢাকা পথে জন্ম নেয় সাহসের অদৃশ্য আলো।
অন্ধকারে জাগে নতুন প্রভাত,
দুর্দশার আঁধারে গড়ে ওঠে জীবনের নতুন সুর।
প্রতিটি চোখে, প্রতিটি হৃদয়ে জন্ম নেয় নতুন আশার দোলা,
যেখানে ব্যথা, ক্ষুধা, ক্লেশ সবই মিলেমিশে কাব্যিক সুর।
পথিকের পদচারণায়, শহরের কোণে,
গ্রামের মাঠে, নদীর তীরে—
মানুষ শিখছে যে সংগ্রামই জীবন,
অন্ধকারের মধ্যেও জন্ম নেয় নতুন আলো।
এটাই অদৃশ্য দুর্দশার যাত্রা,
যেখানে ব্যথা থেকে জন্ম নেয় সাহস,
ক্ষুধা থেকে জাগে নতুন শক্তি,
অসহায়তা থেকে ফুটে ওঠে জীবনের মহাকাব্য।
---
১৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।