তোমাকে মনে পড়ে
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
বৃষ্টি নামে যখন,
আমি দেখি—শহরের কোলাহল ভিজে ওঠে
মাঠের সবুজ ঘাস,
দূর আকাশে ধানক্ষেতের গন্ধ ভেসে আসে,
আর সেই সুরভির ভেতরেই
তুমি হেঁটে আসো ধীরে,
যেন শালিক পাখির ডানার নিচে
অচেনা গ্রামের নিঃশব্দতা।
তুমি তখন আমার কাছে—
একটি নদী, যার বুক ভরে ওঠে
আলোক-ছায়ার মিলনে,
যেন পদ্মার জলে
আকাশের ভাঙা চাঁদ ভেসে আছে।
আমি হাত বাড়িয়ে ছুঁই—
তোমার ভেজা চুল,
তোমার ঠোঁটের কণ্ঠস্বর,
তোমার চোখের বৃষ্টিভেজা ঘূর্ণি।
কিন্তু হঠাৎই
মেঘ সরে গেলে যেমন ধানের খেতে
রোদ এসে সব কিছু শুকিয়ে দেয়,
তুমি সরে যাও ধীরে ধীরে
আমার বুকের ভেতর থেকে,
বৃষ্টি থেমে গেলে ফোঁটার মতো
তুমি গলে যাও মাটির বুকের অন্ধকারে।
আমি একা দাঁড়িয়ে থাকি—
ধানের শীষে কাঁপা বাতাসের মতো,
নদীর তীরে বসে থাকা জেলেদের শূন্য দৃষ্টি নিয়ে,
যেন কেউ নেই—
কেবল মেঘের ভাঙা টুকরো
আমার চোখের ভেতর ভেসে আসে।
তুমি কি জানো—
বৃষ্টি থেমে গেলে পৃথিবী যেমন নিস্তব্ধ হয়,
তেমনি নিস্তব্ধ হয়ে যায় আমার বুক।
তবু প্রতিটি ফোঁটায়
তোমার নাম লুকিয়ে থাকে—
আর আমি শুনি—
কুয়াশার ভেতর থেকে ভেসে আসা
তোমার অচেনা পদধ্বনি।
তুমি ছিলে আমার কাছে—
শিউলি ফুলের গন্ধ,
ভোরের নদীর জলে ভাঙা চাঁদ,
গ্রামের মেঠোপথে কাশফুলের সাদা দোলা।
তুমি ছিলে—
তবু নেই,
বৃষ্টির মতোই এলে,
আর চলে গেলে নীরব আকাশের ভেতর।
আমি তখন শুধু লিখে যাই—
এই ভিজে মাটির ওপর তোমার নাম,
যেন প্রতিটি অক্ষরে জমে থাকে
অশেষ অপেক্ষা,
বিরহের কণ্ঠরোধ করা সুর,
আর ফিরে পাওয়ার অনন্ত আকাঙ্ক্ষা—
যেখানে তুমি ফোঁটার মতো মিলিয়ে গিয়েছিলে।
তুমি একান্তই আমার, কখনো বৃষ্টি রূপে আসো,
কখনো পুষ্পরেণু হয়ে ছুয়ে যাও এই নশ্বর
অঙ্গ।
আসলে তুমি কে ?
হিমশীতল হাওয়া, না প্রেমের অগ্নিকুন্ড
যেখান আমি জ্বলছি একাকী।
তুমি কে ?
(১০/০৫/২০২০)
২০-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।