অস্তিত্বের আর্তনাদ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
হে নিঃশ্বাস, হে চেনা অজানাকেও জাগো,
ভাঙো নিঃসঙ্গ স্মৃতির পুতুল—চলার আগে,
রক্তে লেখা স্বপ্নগুলো হাতে তুলে দাও।
আমি নই যদি, তবু মাটির গুণগুণে আছি,
পথের কাঁটায় মাথা ঠেসে, গান বোনা রাখি।
আকাশের বুকে লাল আগুন ফোটে— শুনো?
এটা আমার আর্তনাদ, এটা আমার দমকে ওঠা ঢেউ;
নদীর মতো বয়ে চলি, বাঁধ ভেঙে বাঁচার তরে,
তুমি বলো—ভালোবাসা কি শেষ হয়?
আমি বলি—ভালোবাসা রক্তে বাজে, চিরঞ্জীব, অনন্ত ঠাঁই।
আঙুলের শিরায় লুকায় থাকা আগুনের কথা বলি,
যে আগুনে অন্ধকার জ্বলে, বলে উঠি—তুমি আছো না?
তুই যে আছিস, আমার ছায়ায়, আমার গোপনে,
তবু কাছে ডাকছে কেমন করে সারাটা ব্যথা—
বিলুপ্ত করে দাও মর্যাদাহীনতা, দাও মুক্তির খোঁজ।
চোখের মধ্যে লুকানো গীত—আমি বাজাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে,
শিরের ভাঁজে শুকনো ফুল হলে ও, আমি গন্ধ ছেড়ি,
তোমার নাম বললে পৃথিবীটা কমে না— বাড়ে,
আমি থাকি—অস্তিত্ব গেঁথে বেঁচে থাকা তো এক সপ্ন নয়।
আনন্দে হেসে ফেলো মিথ্যাচারের মুখোশ; ধুয়োরে আলো জাগাও।
কখনো রক্ত, কখনো জল—প্রতিটি ক্ষরণে তোমারই সুর,
হৃদয়ের ব্যথা হলে গান, রাগ হলে রণভূমি—এটাই আমার সূত।
আর যদি বলে—বিলুপ্ত করে দাও—আমি বলি—না,
বিপ্লবের বিন্দু হয়ে উঠুক হাতগুলো, গড়ুক নতুন সওয়াল,
কারণ আমার অস্তিত্ব আছে—তোমার অঝোরে নামেই, তোমার অনুরাগেই।
আহা—শুষ্ক সন্ধ্যায়ও দিঠক দেয় যে সূর্য,
তাই বলি—দাও, কিন্তু বিলুপ্তির বদলে দাও জন্মের আশ্বাস;
তুমি কাছে ডাকো, আমি আগুন হাতে নিয়ে আসব,
আমার অস্তিত্ব জ্বলবে, ধ্বনিতে, দুলে, গান হয়ে বাজবে,
তোমার জন্য—তোমারই চোখে, তোমারই স্বপ্নে—চিরকাল।
২১-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।