পাথরের ঠোঁটের স্বাক্ষী
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

গঙ্গার ধারে আমি দাঁড়াবো — সময়ের ছেঁড়া অলিন্দ হাতে,
ঘাটের চুনাপাথরে জমে থাকা দিনগুলোকে মিশিয়ে দেবো নিশীর পাতায়।
আমার কণ্ঠ হবে ভাঙা বেলার কাঁকড়ার ডাক, অচেনা গলার তালে নীরব গান,
আর আমার শেষ কৃতী — একটি মোমবাতি, নেভা বা জ্বলা — সেখানেই থুকথুক করে থাকবে।

আমি লিখব না কাগজে, লিখব জলতে; শব্দগুলো বালুর আঙিনায় ছড়িয়ে দিই—
হাতের আঙুলে কাঁধে বয়ে চলা স্মৃতিগুলোকে ধীরে ধীরে ঢেলে দেবো ঢেউয়ের বুকে।
প্রতিটি ঢেউ একাকী পাঠক হবে, প্রতিটি ঝঙ্কার আমার নাম ধরে বলবে না —
তবু জানি, গঙ্গার মুখে সে নাম গড়াবে মিলনের কড়া-ফাঁদে।

একটি নৌকোই হবে আমার কাগজ, ওয়ার্ণিশ চুরুটের গন্ধে ভেজা রাত্রি,
বাতাসের কাঁধে চেপে যাবে আমার শেষ স্বপ্নগুলো — তারা জলে ভেসে যাবে শিশির-সঙ্গীতে।
ঘাটের পাথরের ঠোঁট হাসবে, বেলাভোর সূর্য আমার কবিতাকে ছুঁয়ে যাবে,
আর মানুষ যারা আসবে—হাতজোড়া দিয়ে দেখবে শুধু নদীর কাছে রেখে যাওয়া আমার নীরব প্রার্থনা।

এইটুকুই হবে আমার শেষ কৃতী: নদীর কাছে তোলা একটি নিঃশব্দ দান,
যা ফিরে আসবে না—কিন্তু গঙ্গার হাসিতে, স্রোতের কথা বলে বারবার ফিরে বলবে—
“এখানে ছিল সে, এক মুহূর্তে, তার সমস্ত দিনগুলো দিয়ে মিশে গিয়েছিলো জলে।”
আর ঘাটের কণাদের মধ্যবর্তী এক বিন্দুতে আমি পরাবস্থায় সঙ্গিত হয়ে থাকব চিরকাল।


২২-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।