ডিসেম্বরের শৈশব
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
ডিসেম্বর এলে জীবন যেন থেমে থাকে কুয়াশার স্নিগ্ধ কোলে,
নিদ্রিত সূর্য ছুঁয়ে দেয় পাঠশালার নিস্তব্ধ প্রাঙ্গণ।
খাতা-কলম পথ ভুলে ফেলে আপন আঁধার,
বইয়ের পৃষ্ঠায় ধুলো জমে নীরব স্মৃতির মতো।
আমরা তখন ছুটে যেতাম শিশিরভেজা মাঠের বুকে,
পায়ের ছাপে আঁকতাম মুক্তির অক্ষর।
ঘুড়ির ডানায় তুলে দিতাম গোপন স্বপ্ন,
দাদির পিঠার গন্ধে মাতত ছোট্ট জীবনের মধুর উঠোন।
শীতের রোদ্দুরে মুড়ি দিয়ে বসে,
মাফলার জড়ানো সেই দুপুরগুলোতে বলতাম গল্প —
যেখানে পরীক্ষার ভয় নেই, নিয়মের শৃঙ্খল নেই,
আছে শুধু হাসির কলরব, ছুটে চলার উন্মুক্ততা।
আজও ডিসেম্বর এলে মন যায় সেই অবকাশের দেশে,
যেখানে সময় থেমে থাকত আনন্দের দুয়ারপাশে।
সেখানে আমরা অক্ষর চিনতে শিখিনি, শিখেছিলাম হৃদয় পড়তে —
শিখেছিলাম কীভাবে হাসতে হয়, স্বপ্ন দেখতে হয়,
আর কীভাবে জীবনের প্রতিটি শীতল সকালকে
ভালোবাসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।
০৫-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।