অন্ধকারের মোহনা
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

চলো হারাই দূর মোহনায় —
যেখানে নৈতিকতার সূর্য ডুবে যায় নীরব অন্ধকারে,
যেখানে বিবেকের শিকল খুলে আমি
অচেনা কামনার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিই।
সেই দূরের দেশে, যেখানে প্রেমও লালসার ছদ্মবেশে হাসে,
আমি পথিক — এক পথভ্রষ্ট আত্মা,
যার নৌকা আর ফেরে না সততার তীরে।

ওই চোখ… ওহে নারী, তোমার চোখ —
একটা গভীর সাগর, যেখানে আলো জ্বলে ছলনার দীপে,
যেখানে আমার ধর্ম, আমার সংযম
ডুবে যায় নিঃশব্দ ঢেউয়ের তলায়।
তোমার ঠোঁট — অমৃতের মতো বিষ,
যা পান করে আমি প্রতিদিন মরি,
তবু আবারও বাঁচি পাপের উন্মাদনায়,
আর কামনার অগ্নিতে নিজেকেই ছাই করি।

আমি সেই পথিক, যে পথ হারিয়েছে নিজেই,
যে বৃক্ষ ফল দেয় না,
শুধু ঝরায় তৃষ্ণার অভিশাপ।
আমি সেই প্রদীপ, যে আলোর বদলে
অন্ধকারকে আরও ঘন করে দেয়।
ধর্মের ভাষা আমার কাছে আজ হাস্যকর এক কাব্য,
নীতির পথ আমার কাছে শুকিয়ে যাওয়া নদীর মতো —
যেখানে কোনো দিনও জল ফেরে না।

নারীর শরীর — আজ আমার কাছে রূপক এক শাস্ত্র,
যেখানে প্রতিটি অক্ষরই পাপের প্রার্থনা,
প্রতিটি পৃষ্ঠা — লালসার নতুন অধ্যায়।
আমি সেই পাঠক, যে পড়তে পড়তে ভুলে যায় নিজের নাম,
নিজের ঘর, নিজের আত্মা, নিজের সব কিছু।

ওহে বিশ্ব, তোমরা আমাকে ডাকো “বেহায়া”,
তোমাদের চোখে আমি লজ্জার প্রতীক, পতিত এক দেহ,
কিন্তু আমি জানি — এই পতনের ভেতরেই আছে এক মধুর মুক্তি,
এই হারানোর মধ্যেই আমি খুঁজে পেয়েছি নিজের ছায়াকে।
আমি আনন্দ পাই নিজের ধ্বংসে,
আমি হাসি নিজের পাপের আগুনে পুড়ে।

চলো, আবার হারাই — দূর মোহনায়,
যেখানে ধর্ম সূর্য ডুবে যায় লজ্জার আড়ালে,
আর প্রেমের চাঁদ হারিয়ে যায় পাপের মেঘে।
সেখানে আমি একা নাচি, নেশাগ্রস্ত বাতাসের মতো,
নারীর মোহে মগ্ন, কামনার স্রোতে ক্লান্ত।
আমি জানি — আমার আর ফেরা নেই সেই প্রথম আলোর দেশে,
কারণ আমি এখন বেহায়া —
এক হারানো আত্মা, নারীর চোখে ডুবে থাকা
নিজের অন্ধকারকে ভালোবেসে ফেলেছি চিরদিনের মতো।


০৭-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।