প্রেমই মুক্তির পথ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

নিশীথের নরম নক্ষত্রপুঞ্জে আমি খুঁজে ফিরি এক অদৃশ্য সুর —
না সে দেহের তৃষ্ণা, না চোখের অব্যক্ত ইঙ্গিত,
সে যেন দূর আকাশের শিহরন, যে ডাকে অনন্তের পথে,
যেন নিঃশব্দ কোনো বাতাস, যে ছুঁয়ে যায় আত্মার জানালা।

আমি তাকে প্রেম বলি, তবু সে কেবল প্রেম নয় —
সে এক আলোকরেখা, যা অন্ধকারের গভীরে নামায় আলোকবর্ষের ছোঁয়া।
সে এক অদৃশ্য বসন্ত, যে ঝরে পড়ে হৃদয়ের শুকনো প্রান্তরে,
যেখানে দীর্ঘদিন কিছুই জন্মায়নি,
যেখানে সবকিছু ছিল নিস্তব্ধ, নির্জীব, নিঃশেষ।

সে আমাকে ডাকে, কিন্তু হাত বাড়িয়ে নয় —
সে ডাকে হৃদয়ের ভিতর থেকে,
যেমন সমুদ্র ডাকে নদীকে নিজের বুকে মিশিয়ে নিতে।
সে চায় না কেবল কাছে টেনে রাখতে,
সে চায় মিশিয়ে ফেলতে,
যেন আমি আর সে — দুজন নয়,
এক অবিচ্ছিন্ন সত্তা, এক অনন্ত স্রোত।

এই টান কোনো লালসা নয় — সে এক আত্মার অভিযাত্রা,
যেখানে আকাঙ্ক্ষা মানে শরীর নয়, বরং আত্মার পূর্ণতা।
সে এক প্রদীপের শিখা, যে অন্ধকার সরিয়ে পথ দেখায়,
এক সুবাস, যা ধরা যায় না, তবু ছড়িয়ে পড়ে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে।

তার স্পর্শে আমি শিখি — ভালোবাসা মানে পাওয়া নয়,
ভালোবাসা মানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।
তার নীরবতায় আমি বুঝি — প্রেম মানে চাওয়া নয়,
প্রেম মানে নিজেকে ভুলে গিয়ে আরেকটি আত্মাকে নিজের ভিতরে স্থান দেওয়া।

সে প্রেম —
যে আমার অহংকারের দেয়াল গলিয়ে দেয় শিশিরের মতো,
যে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দেয় নীরবতার ভাষায়।
সে প্রেম —
যে আমাকে শিখায় পাপ আর পবিত্রতার সীমা পেরোতে,
যে শেখায় শরীরের বাইরে থেকেও ছুঁয়ে যেতে এক অনন্ত সত্তাকে।

আর আমি, এক ভাসমান আত্মা,
ভেসে চলেছি সেই প্রেমের অদৃশ্য স্রোতে —
যেখানে নেই কোনো কামনা, নেই কোনো পাপ,
শুধু আছে এক অবিরাম মিশ্রণ — আত্মা থেকে আত্মায়।

এখানে ভালোবাসাই আমার মুক্তির পথ,
এখানে আকর্ষণ মানে জড়িয়ে ধরা নয়,
বরং মুক্ত করে দেওয়া —
যেমন পাখি আকাশকে ভালোবাসে বলে খাঁচা ভেঙে উড়ে যায়।

আমি জানি, এই যাত্রার কোনো গন্তব্য নেই —
কারণ ভালোবাসা গন্তব্য নয়, সে নিজেই পথ।
এবং সেই পথে হাঁটতে হাঁটতেই আমি শিখেছি —
যে ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত সত্য,
ভালোবাসাই মুক্তি,
ভালোবাসাই আমার সমস্ত অস্তিত্বের কারণ।


০৭-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।