অপেক্ষার অনামা পত্র
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

আজও এলো না কোনো খবর —
পথের ধুলো মেখে দিনটি ফিরে গেল শূন্য হাতে,
জানালার পাশে শুকনো কাঁপা পত্রের মতো
আমি বসে রইলাম তোমার চিঠির প্রতীক্ষায়।

ভাবি, হয়তো সেই পিয়ন ক্লান্ত হয়ে গেছে
দূরের পথের অনন্ত যাত্রায়,
অথবা তার পায়ের নিচে হঠাৎ জমে গেছে সময়ের কাদা,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ডুবে যায় ভুলে যাওয়া ঠিকানার বুকে।
হয়তো সে পথ ভুলেছে —
ঠিক যেভাবে তুমি ভুলে গিয়েছো আমার দরজার পথ,
যেভাবে বসন্ত ভুলে যায় একদিন শীতের কাঁপুনিকে।

আমি তবু বিশ্বাস হারাই না —
যে পত্র এখনো আসেনি, সে হারায়নি পুরোপুরি,
হয়তো সে লুকিয়ে আছে কোনো নীল আকাশের বুকে,
হয়তো সে সাঁঝের নরম আলোয় জেগে উঠে ধীরে ধীরে
আমার জানালার কাঁচে আঙুল ছুঁয়ে দেবে একদিন।

তোমার লেখা শব্দেরা হয়তো এখনো উড়ে চলেছে
কোনো নাম-না-জানা বাতাসের পাখায়,
কোনো বৃষ্টির কণার ভেতর গলে গিয়ে
আমার গাল ছুঁয়ে যাবে স্বপ্নের মতো করে।
হয়তো সেই পত্র পথ হারিয়ে পড়েছে কোনো বনের পাতায়,
যেখানে প্রতিটি গাছপালা তোমার নাম ধরে ফিসফিস করে,
আর প্রতিটি ফুল তোমার নীরবতা দিয়ে লিখে চলে কবিতা।

আমি প্রতিদিন ভোরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি —
যেন কোনো তৃষ্ণার্ত নদী অপেক্ষায় থাকে বৃষ্টির,
যেন কোনো প্রদীপ অন্ধকারে অপেক্ষা করে সূর্যের প্রথম চুম্বনের।
বিকেলের আলো যখন নিভে আসে আকাশের কোলে,
আমার চেয়ে অপেক্ষার চেয়ারে বসে থাকে আমার হৃদয়,
হাতে মুঠো করে ধরে রাখা কল্পনার একখানি খাম —
যার ভিতরে লেখা নেই কিছুই,
শুধু আছে তোমার অনুপস্থিতির গন্ধ।

আর যদি কোনোদিন সে পত্র না-ই আসে —
তবু আমি জানি, এই অপেক্ষাই হয়ে থাকবে আমার চিরচেনা সাথী,
এই প্রতিদিনের না-পাওয়া বার্তাই হয়ে উঠবে আমার একমাত্র সংলাপ।
তোমার নীরবতাই হয়ে উঠবে আমার সবচেয়ে আপন কথা,
যেমন আকাশ চিঠি না লিখেও জানায় তার ভালোবাসা বৃষ্টির জল দিয়ে,
যেমন সমুদ্র কথা না বলেও বলে ফেলে তার আকুলতা জোয়ারে।

আজও এলো না কোনো খবর —
তবু আমি চিঠির প্রতীক্ষায় বেঁচে আছি,
প্রতিটি ফাঁকা খামে লিখে যাচ্ছি তোমার নাম —
যেন এক অন্তহীন পত্রবৃষ্টি,
যা কখনো পৌঁছায় না, তবু পৌঁছে যায় হৃদয়ের গভীরে।


০৭-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।