অতলান্তের প্রান্তে তুমি
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
—এক অর্পণ, এক প্রার্থনা, এক অমর বিরহগাথা—
---
???? প্রস্তাবনা
যেখানে আলো আর আঁধার মিশে যায় নীরব স্রোতে,
যেখানে প্রেম জন্ম নেয় না দেহে, বরং আত্মার বেদীতে—
সেখানেই শুরু এই কাব্য।
এ কাব্য নয় কোনো মানুষ ও মানুষের গল্প,
এ এক আত্মার যাত্রা, এক দেবীর আহ্বান।
যে দেবী বিরহে জাগ্রত, ত্যাগে পূর্ণ,
যার নীরবতা সৃষ্টির থেকেও গভীর,
যার অনুপস্থিতি ছুঁয়ে দেয় অস্তিত্বের সীমারেখা।
এই কাব্যে প্রেম কোনো নাম নয়—
সে এক দ্যুতি, এক শাশ্বত অগ্নি,
যা জ্বালিয়ে রাখে স্মৃতির প্রদীপে
এক পরিত্যক্ত হৃদয়ের নাম।
---
???? সমর্পণ
এই কাব্য
সমর্পিত—
বিরহদেবীর চরণে,
যিনি ভালোবাসার পরিণতি জানেন তবু থামেন না,
যিনি হারানোর মধ্যেও খুঁজে পান অমরতা।
সমর্পিত—
তোমার জন্য, যাকে আমি পাইনি,
তবু যার ছায়ায় গড়ে উঠেছে আমার জীবন ও কবিতা।
সমর্পিত—
সেই দক্ষিণ হাওয়ার কাছে,
যে প্রতিরাতে তোমার নাম বয়ে আনে,
আর ফিসফিসিয়ে বলে—
“অতলান্তের প্রান্তে তুমি,
তবু এই প্রান্তেও তুমি আছো,
হৃদয়ের প্রতিধ্বনিতে…”
---
???? মূল কবিতা : অতলান্তের প্রান্তে তুমি
লাল আভায় ভেজা বিকেল, দিগন্তে সুর লেগে রয়,
তুমি এলে — রক্তচন্দন সারি, যেন দেবী রূপময়।
নীরব ছিল ধরণি, আকাশ ছিল স্তব্ধ,
আমি তখন অতিথি—তোমার আত্মায় বন্দী, অবাক, নিঃশব্দ।
তোমার পদধ্বনি ছুঁয়ে গেল কালের প্রান্তর,
চোখে তোমার জ্বলে উঠল নক্ষত্রের অম্বর।
আমি দক্ষিণের বুকে, তুমি উত্তরের আকাশে,
বিরহের আগুন জ্বলে, দু’জন দুই নিশ্বাসে।
তোমার হাসি — শিউলি ভেজা ভোরের কাঁপন,
তোমার চোখ — জ্যোৎস্নায় লুকোনো অনন্ত দহন।
তোমার সারি — এক প্রার্থনা, আগুনে লেখা রং,
তাতে লুকিয়ে ছিল অশ্রুর নরম অনুরণন।
আমি খুঁজেছি তোমার ছোঁয়া, পেয়েছি তোমার ছায়া,
ভালোবাসা ছিল পূজা, ত্যাগ ছিল তার মায়া।
বিরহ তখন দেবী হয়ে জেগে উঠল প্রাণে,
তার চরণধূলি ছড়িয়ে দিল আত্মার বেদীতে গানে।
তোমার অনুপস্থিতি — আমার ধর্মের মন্ত্র,
তোমার নীরবতা — এক মহাযজ্ঞের কেন্দ্র।
অতলান্ত কামনায় পুড়ে যায় প্রতিরাত,
তবু ভালোবাসি — যেন মৃত্যুও হয় তৃপ্তির স্বাদ।
আমি দক্ষিণ বাতাসে লিখি চিঠি প্রতিদিন,
শব্দেরা উড়ে যায়, ছুঁয়ে তোমার বালুকাবেলাবিন।
তুমি পড়ো কি সেগুলো? জানি না, দেবী,
তবু প্রেম তো প্রার্থনা — উত্তর না পেলেও সে নেভে না কভি।
শেষে আমি পরিত্যক্ত, অথচ পরিতৃপ্ত,
তোমার নামে দাঁড়িয়ে সময় হলো নিঃশব্দ।
কারণ যাকে পাওয়া যায় না,
তারই পদতলে রেখে যাই আমার আত্মা,
আর সেই আত্মার আহুতি দিয়েই
গড়ে ওঠে অমর প্রেমের অর্ঘ্য।
২৪-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।