নীরাবতার রঙ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

আজকাল পৃথিবী যেন এক ধূসর পর্দা,
যাহার উপর জীবনের রঙ বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে।
নিস্তব্ধতার কালো-সাদা রেখায়
আমি এক নিঃশব্দ চরিত্র—
নিজেরই সংলাপ বিস্মৃত করিয়া ফেলিয়াছি,
এবং কুয়াশার অন্তরালে
হারানো দৃশ্যের সন্ধান করিতেছি ব্যাকুল প্রাতে।

রবির আলো আসে, কিন্তু তাহার উষ্ণতা
আমার দেহে স্পর্শ করে না—
যেন সূর্যও আজ ক্লান্ত,
আমার হৃদয়ের শৈত্যে আঘাতপ্রাপ্ত।
সময়ের কুঠার ভালোবাসার বৃক্ষটি কেটে ফেলিয়াছে,
তথাপি তাহার মূল এখনো স্পন্দিত,
আমার নিঃসঙ্গতার মৃত্তিকায় সজীব হইয়া রহিয়াছে।

কখনো বা বাতাসে ভাসিয়া আসে এক সুগন্ধ—
যাহা প্রাচীর নিঃশ্বাসের স্মৃতি বহন করে।
সেই গন্ধ দুঃখের পর্দা বিদীর্ণ করিয়া
আমার ম্লান দৃষ্টিপটে আলোকরেখা আঁকে।

আমি তখন চোখ মুদিয়া দেখি—
দূর আকাশে একাকী একটি তারা প্রজ্বলিত,
মনে হয়, প্রাচী এখনও আমার প্রতীক্ষায় জাগিয়া আছে।
আর আমি, সেই নিভে যাওয়া নক্ষত্রের ধূলির উপর দাঁড়াইয়া,
নিম্নস্বরে নিজেরই নিকট বলি—
“এ দৃশ্যের পরিসমাপ্তি এখনও ঘটেনি,
কারণ ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না;
তাহা কেবল পরিবর্তিত হয়—
আলো ও ছায়ার নৃত্যের মতো।”


২৪-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।