তুমি অমোঘা!
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
মানুষ হইয়া মনোরঞ্জন করিয়া যাই,
কেহ করতালি দেয়, কেহ নিঃশব্দে হায়!
নায়কের ভূমিকায় রইলেম বন্ধুরূপে,
আর তুমি, ও নায়িকা— সিংহাসনে রূপে!
তুমি বলিয়া হাসিলে— “ওগো, নাটকে চলো,”
আমি বলিলেম— “হে দেবী, হৃদয় তো দহলো!”
তুমি বলিলে— “এ প্রেম? না, এ অভিনয়!”
আমি বলিলেম— “প্রেমই অভিনয়, বুঝিলে নায়!”
ভালোবাসি তোমায় বারংবার, হে চঞ্চলা,
তবু আঘাত দিতে পারি না কারো মর্মতলা।
এই তো আমার সর্বনাশ— সভ্যতার শাপ,
মন কাঁদে, মুখে হাসি— এ জীবনের চাপ।
রাত্রি শেষে প্রভাত আসে, অথচ তুমি না,
চাঁদের মতো ঠান্ডা মুখে রহিলে সেথা!
বঙ্কিমের ভাষায় বলি— “হে কল্যাণী,
তুমি মায়া, আমি মরীচিকা, চির অনুতাপানী।”
তবু হে প্রেয়সী, জানিও একথা—
তোমার রূপের নাট্যঘরে আজও আমি প্রহরী ব্যথা।
নায়িকা, তুমি অমোঘা—
আর আমি, কেবল এক ব্যঙ্গাত্মক বিরহী মানুষ—
যে প্রেমে হারে, তবু প্রার্থনায় জেতে।
২৭-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।