নিষিদ্ধ তীর
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

তোমার শহরটা একসময় আমার আশ্রয় ছিল,
যেখানে প্রতিটি গলি চিনত আমার পদচিহ্ন,
প্রতিটি আলো জানত আমার নাম।
তোমার চোখ ছিল আমার দিকচিহ্ন,
তোমার হাসি ছিল বাতিঘর,
আর তোমার নীরবতাই ছিল
সেই ঝড়— যেটা আমি বারবার পার হতে চেয়েছিলাম।

তুমি জানো প্রিয়,
প্রত্যেক প্রেমই একদিন সমুদ্র হয়ে ওঠে,
শুরু হয় এক ফোঁটা জল থেকে,
শেষ হয় এক গভীর নীল নিঃশব্দতায়।
আমাদেরও হয়েছিল তেমনই —
একদিন হাওয়ায় ভেসে এসেছিল ভালোবাসা,
আর আজ সেই হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে সব শেষ কথা।

আমি অনেকদিন ভেবেছি —
হয়তো তুমি ফিরে তাকাবে,
হয়তো কোনো ভোরে হঠাৎ
আমার দরজায় পড়বে এক নিঃশব্দ আলো,
যেখানে তোমার ছায়া এসে বলবে,
“ফিরে আয়, এই শহর এখনো তোরই…”
কিন্তু সেই আলো আর আসেনি,
আর আমি শিখে গেছি —
অপেক্ষাও এক প্রকার মৃত্যু।

তোমার শহর এখন আমার নিষিদ্ধ তীর,
যেখানে আমি আর পা রাখি না,
কিন্তু প্রতিদিন ঢেউ এসে ছুঁয়ে যায় আমার পায়ের আঙুলে,
বলে যায় — “তুমি এখনো এখানে আছ।”
আমি হেসে ফেলি, আবার কাঁদি,
কারণ জানি —
স্মৃতি কখনো পুরোপুরি যায় না,
শুধু ভিন্ন রূপে থেকে যায় —
গন্ধ, ছায়া, বা বাতাসের মতো।

আজও যখন বৃষ্টি নামে,
আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবি,
তুমি হয়তো একই সময়ে তাকিয়ে আছো আকাশের দিকে,
একই মেঘের নিচে, অন্য কোনো শহর থেকে।
দূরত্ব বড় হলেও,
আমাদের নিঃশব্দতাগুলো এখনো একে অপরের প্রতিবিম্ব।

তবুও আমি লিখে রাখি —

> “তোমার শহরের আমার আগমন চিরদিনের জন্য বন্ধ হলো।”
কারণ এই ত্যাগই আমার একমাত্র সাহস,
এই দূরত্বই আমার মুক্তি।



তুমি থাকো তোমার আলোয়,
আমি থাকব আমার ছায়ায় —
একই চাঁদের নিচে,
দুই প্রান্তের মানুষ,
দুই তীরের গল্প,
এক অনন্ত সমুদ্রের মাঝখানে —
নিষিদ্ধ তীরে।


১২-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।