অধরার দহন
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
তুমি ছিলে এক জেগে থাকা নক্ষত্র,
যার আলো আমি ছুঁতে পারিনি—
তবু সেই আলোই প্রতিরাতে
আমার অন্ধকার মনটাকে জ্বালিয়ে রাখত
নির্বাক কামনার ভিতর দিয়ে।
আমি ছিলাম এক শুকনো সমুদ্র,
বহুদিন তীরে কোনো ঢেউ ছিল না।
তুমি এসেছিলে মেঘ হয়ে—
কিন্তু বৃষ্টি নামার আগেই
অচেনা বাতাস তোমাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল।
তারপর থেকে
প্রতিটি নোনা ব্যথা
তোমারই আকারে ফিরে ফিরে জাগে আমার ভেতরে।
তুমি যেন কাঁচের তৈরি আগুন—
ছুঁলে ভাঙে, দূরে গেলে পুড়িয়ে দেয়।
আমি তাই দূরেই দাঁড়িয়ে
তোমার শিখার নরম কম্পন দেখি,
আর নিজের অভ্যন্তরের ছায়াদের
ধীরে ধীরে দগ্ধ হতে অনুভব করি।
তুমি ছিলে গোধূলির শেষ সোনালি রেখা—
দিন আর রাতের মাঝখানের
সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য।
আমি তোমার রঙে ডুবতে চাইলে
অন্ধকারে হারিয়ে যাই,
ফিরে এলে দেখি
আলোর ভিতর থেকেও তোমার রূপ
আরো দূরে সরে গেছে।
তুমি ছিলে বাতাসে লুকিয়ে থাকা এক সুর,
যার কোনো শব্দ নেই,
তবু শুনলেই বুকের ভেতর
কিছু একটা ঝরে পড়ে নিঃশব্দে।
আমি ছিলাম বেহালার অব্যবহৃত তার,
যাকে তুমি কখনো ছুঁয়ে বাজাওনি,
তবু তোমার অদৃশ্য সুর
আমাকে কম্পনে ভরে রাখত।
বিরহ আমাদের মাঝে
এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিল—
দেয়ালের ওপার থেকে তুমি
আলো ছুঁড়ে দিলে,
আমি আলো ধরতে পারিনি,
ছাড়তেও পারিনি কখনো।
তুমি আমার গোপন বাগানের
সবচেয়ে অধরা ফুল,
যাকে তুলতে গেলে কাঁটা রক্ত ঝরায়,
দূরে গেলে তার গন্ধ
আরও উগ্র হয়ে ওঠে।
আমি এখনো সেই নদী—
যে নিজের উৎস ভুলে গেছে
শুধু তোমার দিগন্ত খুঁজতে খুঁজতে।
যেমন নদী সাগর দেখেনি কোনোদিন,
তবু সাগরের নোনাজল
তার স্বপ্নে ঢেউ তোলে প্রতি রাতে।
এই আমার প্রেম—
যার পূর্ণতা নেই,
যার বিরহই তার শ্বাস,
আর যার কামনাই তার রূপের আগুন।
১৪-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।