পদ্মরাতের জোৎস্না
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

তারার মেলা লুকিয়ে রেখেছি এই মনের ডগাতে,
নিশীথের রক্তখেলা থেমে আসে দূর অরণ্যের পাতাতে।
পদ্ম-পুকুরে আজও ঘুমহীন বাতাসের নীল স্পর্শ,
জলে ভাসে কতো অচেনা ডাক—কাকে যেন চায় ফেরাতে।

স্বার্থকী তুই, পদ্মপানে রণে নেমে আয়—
রাঙা দেহে সেজে আছি জলের কিনারায়।
মেঘের নীচে লাল আলোর ক্ষতচিহ্ন ঠিকরে পড়ে,
নদীর বুকে খুলে যায় অতীতের গোপন দরোজায়।

পদ্মের লতায় লতায় কত যে থাকে কাঁটা—
সেই কাঁটাই সরাতে আজ কলকা আঁকা হাতটা
রেখে দিই জলে; কাঁপে ক্ষীণ ঢেউয়ের তির্যক আলো,
মনের মতোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে রাতের পথটা।

দূরে কাশবনে অস্থির পাখিরা ডাকে শেষবার—
অথচ এই নীরবতা যেন আরও গভীর করে আঁধার।
ধুলো মাখা স্বপ্নেরা জেগে ওঠে আবার অচিন নেশায়,
যেন রক্তিম পদ্মফুল—অস্পর্শিত, অথচ অফুরান আদরে ভরবার।

এভাবে প্রভাত ফোটে; কুয়াশার বুক ছুঁয়ে
মনে হয়, সব কিছুরই মূল্য আছে নিভৃত এক ক্ষয়ে—
তবু পদ্মের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিলে
অথৈ জলের মাঝে আজও বেঁচে থাকে মানুষের হাত দুয়ে।


২৬-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।