তুমি ছিলে বলেই, বসন্ত
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
সেই কবে বসন্ত এসে দাঁড়িয়েছিল দ্বারে,
কোকিলের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ডাক দিয়েছিল নাম ধরে—
কিন্তু তুমি ছিলে না,
তাই তার রঙ আমি চিনতে পারিনি,
ফুলের হাসি আমার চোখে পৌঁছায়নি।
তোমার অনুপস্থিতির নরম পর্দায় ঢাকা পড়ে
ঋতুর সমস্ত আহ্বান,
বসন্ত নিঃশব্দে চলে গেল—
আমি শুধু সময় পার হতে দেখলাম, ঋতু বদলাতে নয়।
দিনগুলো তখন ছিল ক্লান্ত নদীর মতো,
ধীরে বয়ে যাওয়া অথচ কোথাও পৌঁছায় না,
পাতার সবুজে ছিল না প্রাণের স্পর্শ,
আকাশ ছিল— কিন্তু আলো ছিল না তার ভেতরে।
তুমি না থাকায় হৃদয়ের উঠোনে
কোনো উৎসব বসেনি,
শিমুল-পলাশের আগুন জ্বলেছে দূরে কোথাও,
আমার বুকের কাছে আসেনি তার তাপ।
আর এখন—
হঠাৎ তীব্র গতিতে শীত নেমে আসে,
কুয়াশার চাদরে ঢেকে দেয় পরিচিত পথ,
হাওয়ার প্রতিটি ছোঁয়ায়
তোমার অনুপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শীত আমার কাছে শুধু ঋতু নয়,
এ এক দীর্ঘ নীরবতা,
যেখানে স্মৃতিরা কাঁপে শুকনো পাতার মতো
এবং একা একা পড়ে থাকে।
আমি বুঝি তখন—
বসন্ত কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়,
সে আসে মানুষের সঙ্গে,
তার হাসিতে, তার অপেক্ষায়।
তুমি ছিলে বলেই বসন্ত ছিল,
তুমি নেই বলেই শীত এত দ্রুত, এত নির্মম।
এই শীতের মধ্যেই আমি দাঁড়িয়ে থাকি—
হাত বাড়িয়ে এক ঋতুর দিকে,
যে ঋতু কেবল তোমার নামেই ফিরে আসে।
১৭-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।