নিঃশব্দ উপেক্ষা
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

সেদিন তমসা—
আকাশ কি সত্যিই মেঘের অচলায়তনে আবদ্ধ ছিল,
না কি আমার দৃষ্টির প্রান্তে জমেছিল
অকারণ কুয়াশার দীর্ঘশ্বাস?
নদী কি ঢেউ তুলে ডাকছিল বিদায়ের গান,
না কি মাঝির অন্তরেই
হারিয়ে গিয়েছিল দিশার চিরচেনা চিহ্ন?
তুমি এলে না—
হয়তো বাতাস ভুল ঠিকানায় পৌঁছে
ফিরে গেল নীরবে,
হয়তো সময় নিজেই
বন্ধ করে দিল আগমনের সব ঘাট।
তমসা, তুমি ভাগ্যবতী—
কারো গৃহের দীপশিখা,
কারো প্রার্থনার শেষ নিঃশ্বাস।
অনিশ্চয়তার স্রোত পেরিয়ে
তুমি পৌঁছেছ শান্ত তীরে—
এইটুকু ভেবেই
আমার মন তোমার মঙ্গল কামনায় নত হয়।
আজ আর আমার অনুভবেরা
তোমার কাছে পৌঁছায় না—
ডাকপিয়নের চিঠি পথ ভুলে
হারিয়ে যায় দূর ডাকবাক্সে,
মুঠোফোনে শব্দ জমে থাকে,
কিন্তু হৃদয়ের তারে
কোনো স্পর্শ জাগে না।
আমার প্রাপ্তি বলতে
শুধু কিছু অবহেলা,
কিছু নিঃশব্দ উপেক্ষা—
শরতের অন্তিম প্রহরে
ঝরে-পড়া পাতার মতো,
যা নিঃসঙ্গ উঠোনে
আমারই পদতলে জমে রইল।
তবু বলি—
আমি শূন্য হাতে ফিরিনি,
ব্যথার গভীরেও পেয়েছি
এক অদ্ভুত শান্তি—
নীরবতার সেই গহন দান,
যা প্রতিদিন আমাকে
নিজের সঙ্গে একান্তে
কথা বলতে শেখায়।


২৪-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

২৪-১২-২০২৫ ০১:১৮ মিঃ

অসাধারণ উপস্থাপন